• টাকা ঢোকেনি কেন, ফর্ম পূরণে কী ভুল করেছেন? কৃষ্ণনগরে মহিলাদের প্রশ্নে জেরবার সাইবার কাফে মালিক
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: অন্নপূর্ণা যোজনার  আবেদন প্রক্রিয়া ঘিরে এখন এক ভিন্ন ছবি ফুটে উঠেছে। একদিকে ভুল ফর্ম পূরণের অভিযোগে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে সাইবার ক্যাফে মালিকদের। অন্যদিকে, যাঁদের আবেদন পুনরায় যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয় নথির একাধিক জেরক্স করাতে হওয়ায় দোকানগুলির সামনে ভাল ভিড় জমছে। ফলে আয় বাড়ছে ফটোকপির ব্যবসায়ীদের।

    অন্নপূর্ণা প্রকল্পে আবেদনের পর বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছালেও অনেকেরই আবেদনপত্র বিভিন্ন কারণে বাতিল হয়। এরপর থেকেই প্রতিদিনই বিভিন্ন সাইবার ক্যাফেতে ভিড় করছেন আবেদনকারীরা। তাঁদের অনেকেরই অভিযোগ, একই সময়ে, একই দোকান থেকে একসঙ্গে ফর্ম পূরণ করা হলেও কারও টাকা এসেছে, আবার কারও আসেনি। এই পরিস্থিতিতে বহু মহিলা সাইবার ক্যাফে মালিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে বলছেন, আমার ফর্মে কী ভুল হয়েছে?, একসঙ্গে ফর্ম ফিল-আপ করলাম, ওর টাকা ঢুকল, আমার কেন ঢুকল না?, আপনারা কি ঠিকভাবে আবেদন করেননি?— এমনই নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে দোকানদারদের। 

    বেশিরভাগ সাইবার ক্যাফে মালিকের দাবি, তাঁরা আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই সরকারি নির্দেশিকা মেনে ফর্মপূরণ করেছেন। আবেদন কেন বাতিল হল, সেটা সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানবে। ফর্ম রিজেক্ট করার কারণও জানায়নি। এখন আবার সবাইকে  নতুন করে এনকোয়ারি দিয়েছে। কেন ফর্ম বাতিল করেছিল সেটা আমরা জানবো কি করে! বিনা কারণে কটু কথা আমাদের শুনতে হচ্ছে।

    অন্যদিকে, যাঁদের ফর্ম বাতিল হয়েছিল তাদের আবার নতুন করে যাচাইয়ের জন্য বেশ কিছু নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ভোটার লিস্ট, ব্যাংকের পাসবই, আবেদনপত্র-সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপি জমা দিতে হওয়ায় এলাকার জেরক্সের দোকানগুলিতে গ্রাহকদের ভিড় বেড়েছে। ফলে তাঁদের ব্যবসাও ভাল হচ্ছে।

    শিউলি  বিশ্বাস  নামে কৃষ্ণনগরের এক আবেদনকারী বলেন, প্রথম থেকেই দুর্ভোগ চলছে। শুরুতে ডিবিটি করানোর জন্য লাইন, এখন টাকা না পেয়ে কেউ পঞ্চায়েত অফিসে যাচ্ছি, কেউ বিডিও অফিসে যাচ্ছি। পুনরায় যাচাই করে যদি টাকাটা অ্যাকাউন্টে ঢোকে সেই আশাতেই বসে আছি।

    দীপ বাড়ুই নামে এক সাইবার ক্যাফে মালিক বলেন, এটা আমার ব্যবসা। সবাই চায় ব্যবসা বড়ো হোক, ইচ্ছা করে কেউ দুর্নাম করতে চায় না। ফর্ম ফিল-আপ যখন করছিলাম সবাইকে সবকিছু দেখিয়েই এবং শুনিয়েই পূরণ করেছি। এখন টাকা না ঢুকলে আমি কি করব।
  • Link to this news (বর্তমান)