• এলাকায় অনেক দিবাকর, গ্রেপ্তার ‘অন্য’ ব্যক্তিকে, দাবি পরিবারের
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বারুইপুর কাণ্ডে পুলিশ কাকে ধরতে কাকে ধরেছে! দিবাকর সরদার নামের একজনকে তারা গ্রেপ্তার করেছে ঠিকই, কিন্তু তাঁর সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগই নেই। এক দিবাকরকে ধরতে গিয়ে অন্য দিবাকরকে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। এমনই অভিযোগ তুলেছেন ধৃত দিবাকর সরদারের পরিবারের সদস্য ও তাঁর পাড়া-প্রতিবেশীরা। তাঁদের দাবি, আশপাশের গ্রামে দিবাকর নামে একাধিক ব্যক্তি রয়েছে। সবকিছু যাচাই না করে আমাদের বাড়ির ছেলেকে তুলে নিয়ে গিয়েছে থানায়। মাছ বিক্রেতা এই দিবাকর ভালো ছেলে। তাঁর সমর্থনে গ্রামবাসীরা গণস্বাক্ষর করে মাস পিটিশন জমা দিয়েছেন বারুইপুর থানায়। এই ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের লেখা ‘গুপী বাঘা ফিরে এল’ সিনেমার গল্পকে। সেখানে আচার্য ১২ বছরের যে বিক্রমকে ধরতে সৈন্য পাঠিয়েছিল, তারা সেই বিক্রমকে ঠাহর করতে না পেরে ওই নামের যত কিশোর ছিল, তাদের সবাইকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। এখানেও অভিযুক্ত দিবাকরের খোঁজ না পেয়ে সত্যিই কি পুলিশ অন্য দিবাকরকে তুলে নিয়ে গিয়েছে, উঠছে প্রশ্ন।

    সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্প ছাড়িয়ে বলবলিয়া গ্রামে বাড়ি দিবাকরের। বাড়িতে মা, ভাই ও বউদি রয়েছেন। দিবাকরের স্ত্রী দীপান্বিতা সরদার ও তাঁর দুই সন্তান থাকেন বাপের বাড়িতে। ছেলেকে কেন গ্রেপ্তার করা হল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না মা মধুবালা সরদার। তিনি বলেন, শনি ও রবিবার মাছ বিক্রির পর বাড়িতেই ছিল ছেলে। হঠাৎ পুলিশ এসে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ওকে। কেন গ্রেপ্তার, তা জানানো হয়নি। পরে খবর শুনে কারণ জানতে পারি। কিন্তু এই পাড়ায় এবং আশপাশে একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁদের নাম দিবাকর। ধৃতের ভাই ভাস্কর সরদার বলেন, আনন্দ ও প্রভাস দিবাকরের নাম বলেছে। ওদের সঙ্গে দাদার কোনো সম্পর্ক ছিল না। ফলে কোন দিবাকর অভিযুক্ত, তা যাচাই না করেই পুলিশ দাদাকে তুলে নিয়ে গিয়েছে।

    জানা গিয়েছে, সূর্যপুর পুলিশ ক্যাম্পের ঠিক উলটোদিকে মাছ বিক্রি করতেন এই দিবাকর। বহু সময় পুলিশ কর্মীরাও তাঁর থেকে মাছ কিনতেন। পাড়া-প্রতিবেশীদের কথায়, এই দিবাকর নিরীহ, ভালো বলেই পরিচিত। প্রায় শ’খানেক বাসিন্দা সইসাবুদ করে থানায় চিঠি দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন দিবাকরের বাড়ির লোকজন। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ ঠিক মতো খোঁজখবর করলে প্রকৃত দোষী দিবাকর ধরা পড়বে। এদিকে, নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত আনন্দ সরদারের বাড়ি ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। বাড়ির ভিতর থেকে যাবতীয় জিনিসপত্র পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে সেখানে থাকার মতো পরিস্থিতি নেই বলে জানিয়েছেন তার মা ও স্ত্রী। দুধের শিশুকে নিয়ে আত্মীয়দের দোরে দোরে ঘুরছেন দু’জনে। আনন্দের স্ত্রী মীনা সরদার বলেন, প্রভাস আমার স্বামীকে ফাঁসিয়েছে। আনন্দের বিরুদ্ধে কোনো তথ্যপ্রমাণ পায়নি পুলিশ। আমরা চাই, সঠিক তদন্ত হোক। কেউ যেন বিনা দোষে শাস্তি না পায়। তিনি দাবি করেছেন, চারদিকে যখন জনতা আনন্দকে খুঁজছিল এবং মারমুখী হয়ে উঠেছিল, তখন তিনি নিজেই আনন্দকে থানায় নিয়ে গিয়ে আত্মসমর্পণ করিয়েছিলেন।
  • Link to this news (বর্তমান)