শ্রীরামপুর, চাঁপদানি, ডানকুনি পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের ইস্তফা
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলির আরও তিন পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদত্যাগ করলেন বৃহস্পতিবার। এদিন চাঁপদানির চেয়ারম্যান সুরেশ মিশ্র সহ ২০ জন কাউন্সিলার ইস্তফা দিয়েছেন। একইভাবে পদত্যাগ করেছেন শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা ও ভাইস চেয়ারম্যান। অন্যদিকে, বুধবার রাতে ডানকুনি পুরসভার চেয়ারম্যান হাসিনা শবনম, ভাইস চেয়ারম্যান প্রকাশ রাহা সহ কয়েকজন কাউন্সিলার পদত্যাগ করেন। ফলে, জেলার এই তিন পুরসভার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি রাজ্য সরকারের হাতে চলে যাওয়া কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল।
এখন হুগলির তিন মহকুমায় গুটিকয়েক পুরসভা তৃণমূলের হাতে রয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, সেই সব বোর্ডও চলতি মাসেই হয়ত ভেঙে যাবে। চাঁপদানি পুরসভার পদত্যাগী চেয়ারম্যান সুরেশ মিশ্র বলেন, আমরা পুরসভা চালাতে গিয়ে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়ছিলাম। সেই নিরিখে রাজ্যের কাছে একটি প্যাকেজ চেয়েছিলাম। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সরকার আর এগয়নি। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার কাজ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। যে কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত। শ্রীরামপুরের চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা বলেন, আমার কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। পুরসভা সুস্থভাবে চলুক, সেটাই চাই। ডানকুনি পুরসভা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই জটিলতা চলছিল। নানা অভিযোগে আন্দোলনে নেমেছিল বিজেপি। সোমবারও পদ্মপার্টির সমর্থকরা পুরসভা ঘেরাও করেছিলেন। তারপর বুধবার রাতে পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগী চেয়ারম্যান হাসিনা শবনম বলেন, আমরা পরিষেবা চালিয়ে যেতে চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে পদত্যাগ করতে হয়েছে। বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুমন ঘোষ বলেন, তৃণমূলকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তাঁরা আর মানুষের দোরগোড়ায় যেতে পারছেন না। সেই লজ্জা ঢাকতেই পদ ছেড়ে পালাচ্ছেন। এ বিষয়ে বিজেপির কোনো ভূমিকা নেই। পুরসভা চালাতে না পারা আসলে তৃণমূলের ব্যর্থতা।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইঙ্গিত মিলেছিল আগেই। রাজ্যে পালাবদলের পরপরই হুগলির ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছিলেন। তারপর চন্দননগরের মেয়র ও কাউন্সিলাররা পদত্যাগ করেন। সেই শুরু। এরপর বাঁশবেড়িয়া, চুঁচুড়া পুরসভাও একই পথে হেঁটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শ্রীরামপুর, ডানকুনি ও চাঁপদানিতে পদত্যাগের জেরে পুরবোর্ডে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হুগলির জিটি রোডের দু’ধারে একের পর এক পুরসভা রয়েছে। লাগাতার পদত্যাগের জেরে এখন কেবলমাত্র রিষড়া, বৈদ্যবাটি, কোন্নগর ও উত্তরপাড়া পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড রইল। তবে রাজনৈতিক এবং ওয়াকিবহাল মহলের ইঙ্গিত, সেগুলিরও একই পথে হাঁটা কেবল সময়ের অপেক্ষা।