• কাউন্সিলাররা ব্যস্ত জামিন নিতে, জল-জঞ্জালে নরককুণ্ড পানিহাটি
    বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নতুন নতুন অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। ফলে গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় ভুগছেন পানিহাটির বহু কাউন্সিলার। গ্রেপ্তারি এড়াতে তাঁদের মধ্যে আগাম জামিন নেওয়ার হুটোপুটি পড়েছে। ফলে দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পুরসভায় গরহাজির পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান সহ একাধিক সিআইসি সদস্য। শিকেয় উঠেছে পরিষেবা। জমা জল ও জঞ্জালের সমস্যায় নাভিশ্বাস উঠছে শহরবাসীর। কর্মীদের বেতন হবে কি না, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আগামী ১৭ জুলাই বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছে। ওই মিটিংয়ে চেয়ারম্যান হাজির না হলে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে পানিহাটিজুড়ে তীব্র গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। 

    পানিহাটি পুরসভায় মোট ৩৫ জন কাউন্সিলার রয়েছেন। তার মধ্যে বাম ও কংগ্রেসের দু’জন কাউন্সিলার। বাকিরা সকলেই ঘাসফুলের জনপ্রতিনিধি। অভিযোগ, রাজ্যে পালাবদলের পর চেয়ারম্যান সহ কাউন্সিলারদের নামে থানায় ভুরি ভুরি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জুন মাসে পানিহাটির ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা তৃণমূলের পূর্ব পানিহাটির সভাপতি সম্রাট চক্রবর্তী পদত্যাগ করেছিলেন। সেই পথ ধরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ঝর্ণা চক্রবর্তীও ইস্তফা দেন। কিন্তু মারধর, তোলাবাজি সহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার জয়ন্ত দাস ওরফে গোবিন্দ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শম্ভুনাথ চন্দ ওরফে সনু গ্রেপ্তার হতেই কাউন্সিলারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়। গত ২৯ জুন তৃণমূলের আট কাউন্সিলার একযোগে পদত্যাগ করেন। গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় চেয়ারম্যান সোমনাথ দে, সিআইসি তীর্থঙ্কর ঘোষ, তাপস দে সহ একাধিক কাউন্সিলার জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে পুরসভায় আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রত্যেকেই ছুটছেন হাইকোর্টে আগাম জামিন নিতে। অনেকে আবার গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় মোবাইলের সুইচ অফ করে রেখেছেন। এই পরিস্থিতিতে ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ চক্রবর্তী সহ ১৫ জন কাউন্সিলার পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সুভাষবাবু আগামী ১৭ জুলাই বোর্ড মিটিং ডেকেছেন। এই ডামাডোলে ভেঙে পড়েছে নাগরিক পরিষেবা। সারা শহর আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। আগে কেএমডিএ’র উদ্যোগে প্রতিদিন ১০-১২টি ডাম্পার দু’-ট্রিপ করে আবর্জনা ধাপায় যেত। তাতেও শহরের সব আবর্জনা সরানো যেত না। এখন ডাম্পারের সংখ্যা কমে তিন-চারটিতে নেমে এসেছে। সর্বত্র জল জমে রয়েছে। শহরের বিস্তীর্ণ অংশ নরককুণ্ডের চেহারা নিয়েছে। এই বিষয়ে মতামতের জন্য সোমনাথ দে’কে ফোন করা হলে তাঁর মোবাইল সুইচড অফ ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক নেতা বলেন, একের পর এক মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার সিআইসি অফিসে হামলা চালানো হলেও পুলিশ ও প্রশাসন নীরব দর্শক। গ্রেপ্তার ও হেনস্তার আশঙ্কায় বেশিরভাগ কাউন্সিলার তাই এলাকাছাড়া।

    ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ চক্রবর্তী বলেন, চেয়ারম্যান না আসায় পুরসভা পরিচালনায় জটিলতা হচ্ছে। আগামী ১৭ তারিখ বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে চেয়ারম্যান হাজির না হলে পুর আইনের ৫০-বি ধারায় নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান রয়েছে। এনিয়ে প্রশাসনিক স্তরেও আলোচনা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)