অন্নপূর্ণা পাবেন না সিভিক-আশাকর্মীরা, বাদ অঙ্গনওয়াড়িরাও, ফর্ম ‘এডিট’ করার সুযোগ আবেদনকারীদের
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনা? প্রশ্ন এবং ধন্দ। গত দু’মাসে এটাই নিত্যসঙ্গী রাজ্যের আম জনতার। নতুন কিছু শর্ত বা নিয়মাবলির মাধ্যমে সেই ‘সংশয়’ই স্পষ্ট করে দিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। বুধবারের এই সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা বৈঠকের কার্যবিবরণী বা মিনিটস-এর সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে থাকা শর্তই শুধু নয়। আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, পার্শ্বশিক্ষক, সিভিক ভলান্টিয়াররাও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। মূল বিজ্ঞপ্তিতে যদিও বলা হয়েছিল, কোনো মহিলা সরকারি চাকরি করলে বা আয়কর দিলে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। অঙ্গনওয়াড়ি বা সিভিকের মতো কর্মীদেরও এই ছাতার তলায় নিয়ে আসা মানে একটা বিষয় স্পষ্ট—সরকারি খাত থেকে সাম্মানিক বা পারিশ্রমিক পেলেই তিনি আর অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না। আবেদনকারীর পরিবারের কেউ সরকারি চাকরি করলে, বা পেনশনভোগী হলেও তাঁদের আরজি বাতিল হবে। এখানেই শেষ নয়, পরিবারে কেউ আয়করদাতা থাকলেও সেই মহিলার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকবে না।
রাজ্য সরকার নির্দেশ দিয়েছে, প্রকৃত প্রান্তিক এবং অভাবী পরিবারের মহিলারাই যেন অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করতে। তবে এক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল বিক্ষোভের জেরে ফের যাচাইয়ে মুখে পড়া ২৮ লক্ষ আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ। কারণ, যে সব ‘শর্তে’র জন্য তাঁদের নাম তালিকায় ঢোকেনি, সেগুলিই এই দফায় নিয়মের আওতায় চলে আসছে। সরকার জানিয়ে দিয়েছে, আবেদনকারীর পরিবারের কারও জিএসটি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর থাকলে, বাড়িতে তিনটি পাকা ঘর থাকলে এবং ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমির মালিক হলেও তাঁর বাড়ি গিয়ে যাচাই হবে। তারপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন আধিকারিক। অর্থাৎ, ধরে নেওয়া যেতেই পারে, এমন আবেদনকারী আর অন্নপূর্ণার প্রাপক তালিকায় নাম তুলতে পারবেন না। যদিও এই নতুন নির্দেশিকায় আতান্তরে পড়ে গিয়েছেন অঙ্গনওয়াড়ি-আশাকর্মীরা। সূত্রের খবর, তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে গিয়েছিল। এবার সেই টাকা ফেরত চাওয়া হচ্ছে। রাজ্যে বর্তমানে আশাকর্মীর সংখ্যা গ্রাম এবং শহর মিলিয়ে ৭৫ হাজার। পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন বলেন, ‘রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে মেয়েরা মর্মাহত, ক্ষুব্ধ। আগের সরকারের সময়ে আমরা দেড় হাজার টাকা করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতাম। গত কিছুদিন ধরে টানা উত্তর ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, হাওড়া, নদীয়া সহ বিভিন্ন জেলা থেকে মেয়েদের ফোন পাচ্ছিলাম। যারা যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেয়েছে, বিডিও অফিস থেকে বলা হচ্ছিল, কাগজে লিখে দিন, আমরা টাকা নেব না। এই বলে টাকা ফেরত দিয়ে দিন। আর বৃহস্পতিবার তো সরকার জানিয়েই দিল। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
তবে আটকে থাকা আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের সময়মতো আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতেও ‘এডিট অপশন’ নিয়ে এসেছে রাজ্যের নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর। ফলে যে আবেদনকারীর নাম বা তথ্য সংক্রান্ত সংশোধনের প্রয়োজন, তাঁরা জেলা আধিকারিকদের সহযোগিতায় পোর্টালে ঢুকে ‘এডিট’ করতে পারবেন। পাশাপাশি রাজ্য জানিয়েছে, দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে আধিকারিকের সুপারিশপত্র আপলোড আবশ্যিক রাখা হচ্ছে না। তবে সিল ও সই-সহ এই সংক্রান্ত নথির হার্ড কপি সংরক্ষণ করতে হবে। যাচাইয়ের গতি বাড়াতে জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনে সিডিপিও, আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, সহায়িকা, সুপারভাইজার এবং আগ্রহী বিএলওদের কাজে লাগাতে হবে। ৩০ জুন পর্যন্ত জমা পড়া এবং বর্তমানে যাচাইয়ের অধীনে থাকা সমস্ত আবেদন যাচাই করে যোগ্যদের তালিকাভুক্তির কাজ ১০ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সময়সীমার মধ্যে শেষ করতে হবে অফলাইনে জমা পড়া সমস্ত আবেদন ডিজিটাইজেশনের কাজও।