নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বারুইপুরে এনকাউন্টারের ঘটনা কীভাবে জানতে তদন্তে নামল সিআইডি। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে তারা। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে ভিডিও করার পাশাপাশি বারুইপুর থানা থেকে বাজেয়াপ্ত করা জিনিস সংগ্রহ করে তারা। এনকাউন্টারে খতম প্রভাস মণ্ডলের দেহের শরীরে বুলেট কী অবস্থায় ছিল জানতে ডিজিটাল স্ক্যান করা হয়। ধর্ষণ-খুনের ঘটনার মতো মারাত্মক অপরাধে অভিযুক্তকে হাতকড়া পরিয়ে নাকি হাতকড়া ছাড়া রি-কনস্ট্রাকশনের জন্য ক্রাইম সিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল? তদন্ত পর্বে উত্তর খুঁজছে সিআইডি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, যে বা যারা এনকাউন্টার করেছে, তারা ঘটনার তদন্ত করতে পারে না। নিরপেক্ষ সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে। সেই কারণে বারুইপুর জেলা পুলিশের এনকাউন্টারের তদন্তভার সিআইডিকে দেওয়া হয়েছে। তদন্তভার হাতে নিয়েই সিআইডি অফিসাররা এনকাউন্টার স্থলে যান। প্রভাসকে হাতকড়া অবস্থায় আনা হয়েছিল কি না, তা জানতে চান তাঁরা। রিভালভার ছিনতাইয়ের পর প্রভাস যতটা দৌড়ে যেতে পেরেছিলেন, সেই জায়গা মাপা হয়।
এরপর টিম থানা থেকে জিডির কপি সংগ্রহ করে। কটার সময় প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হয়, কোন গাড়িতে বসানো হয়েছিল, এনকাউন্টার যেখানে হয়েছে সেখানে পৌঁছনোর সময় কখন , ফিরে এসে জিডি এন্ট্রি করা হয়েছিল কি না, এই সংক্রান্ত বিষয় খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে তদন্তকারী সংস্থা। থানার আর্মারি থেকে কখন এবং কী ধরনের রিভালভার তোলা হয়েছিল, তারও নথিও পরীক্ষা করা হয়। যে দুটি রিভালভার থেকে গুলি চলেছিল, সেগুলিও পরীক্ষা চলে। এগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে। এমনকি পুনর্নির্মাণের সময় সাক্ষী হিসেবে যারা ছিল, তাদের তথ্যও নেওয়া হয়েছে বলে খবর। তবে এনকাউন্টারের সময় প্রভাসের হাতে হাতকড়া ছিল কি না, সেটা জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা। কারণ বিএনএসএসের ধারায় বলা হয়েছে নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্তের হাতকড়া পরানো যাবে। গভীর রাতে কেন প্রভাসকে নিয়ে যাওয়া হল এবং অভিযুক্ত রিভলভার চালাতে পারে কি না, সেই বিষয়টিও সিআইডি তদন্ত করে দেখবে। এদিকে প্রভাসের ময়না তদন্তের রিপোর্টে দুটি গুলি লাগার কথা বলা হয়েছে। গুলি শরীর ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। প্রভাসের পরিবার প্রথমে দেহ নিতে না চাইলেও শেষপর্যন্ত তারা নিয়ে যায়। যদিও এই নিয়ে তারা আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এদিকে এই ঘটনা নিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বৃহস্পতিবার বলেন, এনকাউন্টারের ঘটনায় যে সমস্ত বুদ্ধিজীবিরা সহানুভূতি দেখাচ্ছেন, তাঁরা সমাজবিরোধী। ডিম যেখানে সেখানে নষ্ট করবেন না। তাঁদের মাথায় ডিম ভাঙুন। বুঝিয়ে দিন সমাজবিরোধীদের।