চাকরি পিছু ৬ লক্ষ, সুজিত বসুর বিরুদ্ধে চার্জশিট ইডির
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চাকরিপ্রার্থী পিছু ৬ লক্ষ টাকা তুলেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। মোট ৩৪০ জনের কাছ থেকে টাকা তুলেছিলেন। তার মধ্যে নিয়োগ হয়েছে ২৮৪ জন। বৃহস্পতিবার নগর দায়রা আদালতের বিশেষ কোর্টে জমা দেওয়া পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। চার্জশিটে রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীর সঙ্গেই নাম রয়েছে পুত্র সমুদ্র বসু, তাঁর দুই সংস্থা এবং তৎকালীন ডিরেক্টর অব লোকাল বডিস (ডিএলবি) তথা আইএএস অফিসার জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের। সুজিত বসুর বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ইডি’র। তার মধ্যে তিন কোটি টাকা এসেছিল তৎকালীন ডিএলবি’র মাধ্যমে। ১৮৬ পাতার ওই চার্জশিটে ইডি জানিয়েছে, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে মোট অঙ্কের পরিমাণ ২৫০ কোটি।
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান সুজিত বসুকে গত ১১ মে গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। এই পর্বে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তাঁর পুত্র সমুদ্রকে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান পাচু রায়ও। সুজিতের গ্রেপ্তারির ৬০ দিনের মাথায় চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় এই এজেন্সি। চার্জশিটে যুক্ত করা হয়েছে সাড়ে ১২ হাজার পাতার নথি এবং প্রাক্তন মন্ত্রীর ল্যাপটপ থেকে বাজেয়াপ্ত ডিজিটাল এভিডেন্স। ইডির দাবি, মামলার ক্ষেত্রে এগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছিল অয়ন শীলের বিরুদ্ধে। ২০১৭ থেকে ২০১৯’এর মধ্যে হওয়া এই দুর্নীতির মূল পান্ডা বলে তাঁকেই চিহ্নিত করেছিল তদন্তকারী সংস্থা। সেই সময় অয়নের ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশও মেলে।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি তদন্তপর্বে আচমকাই পুরসভাগুলিতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার হদিশ পান তদন্তকারীরা। অয়ন শীলের হুগলি এবং সল্টলেকের বাড়িতে তল্লাশির সময় পুর নিয়োগ সংক্রান্ত বিপুল পরিমাণ নথি উদ্ধার করেন তাঁরা। নথি উদ্ধারের সূত্র ধরে অয়ন শীল এবং তাঁর সংস্থা এবিএস ইনফ্রাজোনের বাকি কর্তাদের জেরা শুরু হয়। ইডি আধিকারিকরা জানতে পারেন, পুর নিয়োগ পরীক্ষার সমগ্র দায়িত্বে ছিল অয়ন শীলের সংস্থা। প্রশ্নপত্র এবং ওএমআর শিট তৈরির পাশাপাশি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, এমনকি বাছাই হওয়া প্রার্থীদের প্যানেলও তৈরি করেছিল এবিএস ইনফ্রাজোন। অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানেই পুরসভার চাকরির সুপারিশ সংক্রান্ত নথি ইডির হাতে আসে। তদন্তকারীদের হাতে আসে ‘এসবি’ লেখা কিছু নথি। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এরপর তদন্তে দেখা যায়, দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগে ব্যাপক গরমিল। সেই সময় পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন সুজিত বসু নিজেই। ইডির সঙ্গে তদন্ত শুরু করে সিবিআইও। এরপরই ইডি উদ্ধার করে ৪০ জনের চাকরির জন্য সুজিত বসুর করা সুপারিশের কাগজপত্র। জেরা করা হয় সুজিত ঘনিষ্ঠ দক্ষিণ দমদম পুরসভার বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই দত্তকেও। তাঁর বয়ানেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ঠিক কীভাবে সুপারিশ করা হয়েছে চাকরি প্রার্থীদের নাম। এই তদন্ত পর্বেই ইডির নজরে আসে সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্রের ধাবা ও রেস্তরাঁর সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টিও। কোভিড পর্বে সেখানে হয়েছে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন। তার সদুত্তর মেলেনি।