বারাসত মেডিকেল কলেজে পরিদর্শন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর, গাফিলতির দায়ে শো-কজ
বর্তমান | ১০ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বৃহস্পতিবার বিকেলে বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে আসেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানে একাধিক অনিয়মের ছবি দেখে ক্ষুব্ধ হন তিনি। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার সহ কয়েকজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীকে শো-কজ করেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার জবাব এবং রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সম্প্রসারণে ৫০ থেকে ১০০টি নন-বেডেড প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বেড চালুর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি থেকে শুরু করে একের পর এক ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। রোগী ও পরিজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিষেবার সংক্রান্ত খোঁজ নেন। চিকিৎসা নিয়ে বড়ো অভিযোগ না মিললেও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও পরিকাঠামোর বেহাল দশা নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় ওয়ার্ডের ভিতর বিড়ালের অবাধ যাতায়াত, ওষুধ রাখার জায়গায় ধুলোর স্তর, ভাঙাচোরা ছাদ, অপরিষ্কার ড্রেন এবং শোচনীয় শৌচাগারের ছবি সামনে আসে। ছাদে উঠতে গিয়েও বিপাকে পড়তে হয় মন্ত্রীকে। দীর্ঘক্ষণ চাবি না মেলায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয় তাঁকে। এরপরেই দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে ওয়ার্ড মাস্টারসহ একাধিক কর্মীকে শো-কজের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। কড়া অবস্থানের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও বিস্তৃত করার বার্তাও দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, রাজ্যের ৫০ থেকে ১০০টি নন-বেডেড প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে বেড চালু করা হবে। এতে প্রাথমিক স্তরে আরও বেশি রোগী ভরতি রেখে চিকিৎসার সুযোগ মিলবে এবং জেলা ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপর চাপ কমবে। বারাসত মেডিকেল কলেজের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্মীরা কাজ করেন। স্পেশাল অভিযানও করা হয়। মন্ত্রী এসে সার্বিক দিক ঘুরে দেখেছেন। শো-কজের জবাব দেওয়া হবে। নিজস্ব চিত্র