• বিদ্রোহীদের কথায় পুরসভা চলবে না, পদত্যাগের হুমকি, একজোট জলপাইগুড়ির কালীঘাটপন্থীরা
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি পুরসভায় ঋতব্রতরা যদি ছড়ি ঘোরায়, তাহলে প্রয়োজনে কাউন্সিলারের পদ থেকে পদত্যাগ করা হবে। কালীঘাটপন্থী বেশ কয়েকজন কাউন্সিলাররা একথা জানান। নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে তাঁরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের সাফ কথা, কোনও অবস্থাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা ধোঁকা দিতে পারবেন না।

    গত শনিবার বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে গিয়ে দেখা করেন জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়। সেই ছবি প্রকাশ হতেই জলপাইগুড়িতে শোরগোল পড়ে যায়। অভিযোগ ওঠে, কারও সঙ্গে কথা না–বলেই চেয়ারম্যান কলকাতায় গিয়ে বিদ্রোহী শিবিরের নেতার সঙ্গে দেখা করেন। কাউন্সিলারদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সমাজ মাধ্যমে সোচ্চার হন। এরপর জলপাইগুড়ি ফিরে সোমবার কাউন্সিলারদের নিয়ে বৈঠক করেন সৈকত। যদিও ওই বৈঠকে তৃণমূল কাউন্সিলারদের ২২ জনের মধ্যে অনেকেই অনুপস্থিত ছিলেন। চেয়ারম্যানের ওই ঋত সাক্ষাতের পর প্রশ্ন ওঠে সৈকত কি বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। যদিও তিনি বিষয়টি সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে লঘু করতে চেয়েছেন। বৃহস্পতিবার এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি পুরপ্রধান।

    তবে পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার উত্তম বোস বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলে ছিলাম। ঋতব্রতর শিবিরে গিয়ে নেত্রীর সঙ্গে বেইমানি করতে পারব না। মমতার দেওয়া চেয়ারে বসে থাকব, আর ঋতব্রতের গুণগান গাইব, সেটা হবে না।’ তিনি জানান, মমতা অনুগামী কাউন্সিলাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পুরসভা যদি ঋতব্রতদের নিয়ে চলে তাহলে তাঁরা কাউন্সিলারের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।

    ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তারকনাথ দাস বলেন, ‘আমি অসুস্থ, তাই বৈঠকে ছিলাম না। তবে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছি। কারণ তাঁর দেওয়া টিকিটেই কাউন্সিলার হয়েছি।’ ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তপন বন্দোপাধ্যায় বলেন, ‘মমতা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও চিন্তা করছি না। সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে পরিচিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার নীলম শর্মা বলেন, ‘চেয়ারম্যান ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছেন। এ নিয়ে অযথা জলঘোলা করা হচ্ছে।’

  • Link to this news (এই সময়)