এই সময়, মালদা: সরকারি জমির দখলের প্রতিবাদ করায় বিজেপির বুথ সহ-সভাপতির উপর অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। বুধবার রাতের এই ঘটনায় জখম বিজেপি নেতা চন্দন রায়কে গাজোল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে রেফার করা হয় মালদা মেডিক্যাল কলেজে।
ঘটনাটি ঘটেছে গাজোল থানার সালাইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের জীবনপুর এলাকায়। আহতের ভাই পরিমল গাজোল থানায় চার তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ তিন হামলাকারীকে আটক করেছে। একজন পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতের বাড়ি গাজোলের লক্ষীপুর এলাকায়। জীবনপুর এলাকার প্রায় ৬০ বিঘার একটি খাস জমির অধিকাংশ দখল করার অভিযোগ ওঠে এলাকার তৃণমূল কর্মী দেবদুলাল রায় ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। কয়েকদিন আগে এই দখলদারি নিয়ে সালাইডাঙ্গা অঞ্চলের বিজেপির বুথ সহ-সভাপতি চন্দন ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং পুলিশে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ভূমি সংস্কার দপ্তরের দুই কর্মী ওই জমি মাপজোক করতে যান। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্দন। দেবদুলাল সরকারি কর্মীদের সামনেই বিজেপি নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ। এরপরে রাতে বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্তেরা চন্দনের উপর হামলা চালান। তাঁর মাথা ফেটে যায়। স্থানীয়রা ছুটে এলে অভিযুক্তেরা পালিয়ে যান।
আক্রান্ত নেতার ভাই পরিমল বলেন, ‘তৃণমূল ক্ষমতা থাকাকালীন দেবদুলাল ও তাঁর দলবল সরকারি জমির একটা বড় অংশ দখল করে বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছিল। দাদা বাধা দিয়েছিল। এরপর ক্ষমতার পালাবদল হতে প্রশাসনের কাছে নালিশ জানানো হয়। তার জেরেই দাদার উপর হামলা হলো।’ উত্তর মালদার বিজেপির তপশিলি জাতি মোর্চার সভাপতি মনোতোষ মণ্ডল বলেন, ‘জমি দখলের প্রতিবাদ করায় চন্দনকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’
তৃণমূলের জেলার প্রাক্তন সভাপতি তথা বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, ‘যদি কেউ অন্যায় করে থাকে তার জন্য পুলিশ প্রশাসন আছে। কিন্তু তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে ভাবে জমি দখলে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তার কোনও ভিত্তি নেই।’ গাজোল থানার পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তিনজনকে আটক করা হয়েছে। হামলার ঘটনা নিয়ে আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের খোঁজ করা হচ্ছে।’