এই সময়, কোচবিহার: সাইবার জালিয়াতির কবলে পড়লেন বিজেপির শীতলখুচির বিধায়ক সাবিত্রী বর্মন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাক করা হয়। এরপরই বিধায়কের পরিচিত বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিষয়টি জানতে পেরে তড়িঘড়ি মাথাভাঙা সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সাবিত্রী। তবে বিধায়ক বা তাঁর পরিচিত কারও টাকা উধাও হয়নি। বিকেলের মধ্যেই তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ স্বাভাবিক হয়।
এদিন দুপুরে সাবিত্রীর কাছে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। অপর প্রান্তে হিন্দিভাষী এক ব্যক্তি তাঁকে জানান, রাজ্য দলীয় কার্যালয় থেকে কিছু সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। সেই সামগ্রী পেতে তাঁকে একটি নম্বর দিয়ে ফোন করতে বলা হয়। তিনি সহজ ভাবে সেই নম্বরে ডায়াল করতেই তাঁর নম্বর হ্যাক হয়ে যায়। অবশ্য বিধায়ক তখন কিছু বুঝতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর তার পরিচিতি কয়েক জনের কাছ থেকে বিধায়কের নম্বর থেকে মেসেজ করে টাকা চাওয়া হয়। এর মধ্যে একজনের সন্দেহ হওয়ায় তিনি সাবিত্রীকে ফোন করে জানতে চান, কী সমস্যা হয়েছে, কেন টাকার প্রয়োজন। তখন বিধায়ক অবাক হয়ে যান। জানান, এরকম কোনও মেসেজ তিনি করেননি। এরপরই সাবিত্রী মাথাভাঙা সাইবার থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বিজেপি বিধায়ক বলেন, ‘ভেবেছিলাম রাজ্য দপ্তর থেকে কোনও ত্রাণ সামগ্রী পাঠাচ্ছে। তাই ওই অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কারণ মাঝেমধ্যেই এরকম রাজ্য দপ্তর থেকে ফোন আসে। তবে এভাবে যে সাইবার ক্রাইমের শিকার হব, তা বুঝতে পারিনি।’ এই ঘটনা নিয়ে মেখলিগঞ্জের বিজেপি নেতা জ্যোতিপ্রকাশ রায় সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘সাবিত্রী বর্মনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে এদিন ৩৫ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। সার্ভার খারাপ থাকায় সেই টাকা যায়নি। পরবর্তীতে সাবিত্রীদির স্বামীকে ফোন করে টাকা পাঠানোর জন্য অন্য একটি অন্য নম্বর চাই।
তিনি বলেন, এরকম কোনও বিষয় নেই। তখনই দিদির নম্বর হ্যাকের বিষয়টি জানতে পারি।’ গত সপ্তাহে ফালাকাটার বিধায়ক ও রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের ফোনও হ্যাক হয়েছিল। একই কায়দায় তাঁর পরিচিতদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়। যদিও সেখানেও সফল হননি প্রতারকরা।