স্কুল ছুটি, তাই বাবার পাশে রোজগারের উদ্যোগ! ছোট থেকেই সংসারের 'লড়াই' শিখছে অঙ্কুশ
News18 বাংলা | ১০ জুলাই ২০২৬
রোদ, ঝড়, বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাস্তার ধারে প্রতিদিনের এক অসম লড়াই। সঙ্গী কেবল এক বুক জেদ আর পরিবারের প্রতি অমোঘ টান। সমবয়সিরা যখন ছুটির দিনে মোবাইলের গেম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় বুঁদ, তখন বাবার সঙ্গে ভিনরাজ্যে এসে প্লাস্টিকের খেলনা গাড়ি বিক্রি করছে ১৫-১৬ বছরের এক কিশোর। নাম তার অঙ্কুশ। মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা এই কিশোর বর্তমানে তার স্কুলের ছুটির সময়টাকে কাজে লাগাচ্ছে অভাবের সংসারের পাশে দাঁড়াতে।
মধ্যপ্রদেশ থেকে বাংলায় এসে বাবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সে এখন রীতিমতো দায়িত্বশীল। রাস্তা জুড়ে সারিবদ্ধভাবে সাজানো বড় আকারের নানা রঙের প্লাস্টিকের খেলনা গাড়ি। একেকটি গাড়ির দাম প্রায় ৫০০ টাকা। মহারাষ্ট্র থেকে কিনে আনা এই খেলনা গাড়িগুলিই এখন তাদের রোজগারের মূল ভরসা।
ব্যবসার সুবিধার্থে বাবা ও ছেলে দু’টি আলাদা জায়গায় পসরা সাজিয়ে বসেন। ছেলে রাস্তার ধারে এক জায়গায় দোকানের দায়িত্ব সামলায়, আর বাবা গ্রামে গ্রামে ঘুরে ফেরি করেন এই খেলনা গাড়ি। এভাবেই সারাদিন ক্রেতাদের অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকতে হয় তাদের।
অঙ্কুশদের পরিবারে রয়েছেন বাবা, মা, এক বোন এবং সে নিজে। জানা গিয়েছে, এই প্লাস্টিকের গাড়ি বিক্রি করে মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত রোজগার হয় তাদের। সেই টাকাতেই ভিনরাজ্যে নিজেদের থাকা-খাওয়া এবং দেশের বাড়িতে থাকা গোটা সংসারের খরচ চলে। ছুটির মরসুমে এই হাড়ভাঙা খাটুনিই এখন অঙ্কুশের প্রতিদিনের রোজনামচা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যে বয়সে বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের একাংশ মোবাইলের স্ক্রিনে বন্দি হয়ে বিপথে পা বাড়াচ্ছে, সেই বয়সে পরিবারের প্রতি এক কিশোরের এই গভীর দায়বদ্ধতা ও পরিশ্রমকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এলাকার ক্রেতা থেকে শুরু করে পথচলতি মানুষের চোখে এই লড়াইয়ের ময়দানে অঙ্কুশ আজ এক সত্যিকারের অনুপ্রেরণার নাম।