• 'বলতে বাধ্য হচ্ছি...' ৩ 'ভাল তৃণমূল'কে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ কর্মী-সমর্থকদের, কে কী বলছেন?
    আজ তক | ১০ জুলাই ২০২৬
  • বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্য়সভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে সল্টলেকের দফতরে তাঁদের হাতে দলের পতাকা তুলে দেওয়া হয়। আর এই ঘটনার মাধ্যমেই ভোট পরিবর্তী বাংলায় প্রথমবারের জন্য 'সরাসরি' দল বদলের ঘটনা ঘটল। যার জেরে বিজেপির বহু নেতা ও কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের ছবি স্পষ্ট। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

    যদিও ক্ষোভ হতে পারে জেনে প্রথম থেকেই নিজের ঢাল তৈরি রেখেছিলেন শমীক। তিনি দাবি করেন, এই যোগদান কোনওভাবেই 'বিচ্যুতি' নয়। বরং তাঁর কথায়, 'তৃণমূলে থেকে যাঁরা দুর্নীতি করেননি, তাঁদের আগেই পাশে চেয়েছে বিজেপি।'


    তবে রাজ্য সভাপতির মুখে এই কথা শোনার পরও ক্ষোভ একটা প্রশমিত হয়নি বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বিজেপির অন্দরের অনেক ছোট-বড় নেতাই বিষয়টা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বেশ ক্ষুদ্ধ। এমনকী কর্মী সমর্থকেরাও বেশ হতাশ। কিছু ক্ষেত্রে সেই ক্ষোভের দেখা মিলছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। 

    বিজেপি ওয়েস্ট বেঙ্গল ফেসবুক পেজে ক্ষোভ
    এই তিন প্রাক্তন তৃণমূলের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করা দলের অফিসিয়াল পেজ থেকে। আর সেখানেই নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দেন সাধারণ কর্মী সমর্থকেরা। 

    অভিজিৎ বিশ্বাস নামক এক ব্যক্তি লেখেন, 'একজন নিবেদিতপ্রাণ বিজেপি কর্মী হিসেবে আজ আমি অত্যন্ত মর্মাহত। শমীক ভট্টাচার্য মহাশয়, আপনিই তো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে দলকে কলুষমুক্ত রাখবেন। আজ যে মানুষগুলোকে দলে নেওয়া হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরাই তো বছরের পর বছর লড়াই করেছি। তাহলে কি আমাদের সেই লড়াই, পুলিশের লাঠি আর ত্যাগ শুধুই বৃথা ছিল?
    নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন রইল—আদর্শ বড়, নাকি সুবিধাবাদ? যারা দলের জন্য নিজের রক্ত ও সময় দিয়েছেন, তাদের কি আর কোনও মূল্যায়ন নেই? এই দলবদল আমাদের মতো কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে...'

    পিনাকী সরকার নামে এক ব্যক্তি লেখেন, 'যাঁরা ৪ তারিখের আগেও বিজেপি ছিল এটা তাঁদের কথা: Samik Bhattacharya Suvendu Adhikari আজ গভীরভাবে ব্যথিত ও হতাশ।
    শমীক ভট্টাচার্য মহাশয়, আপনার কাছ থেকে আমরা শুনেছিলাম—দলকে স্বচ্ছ ও আদর্শনিষ্ঠ রাখার অঙ্গীকার। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমরা দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছি, লাঠির আঘাত সহ্য করেছি, অসংখ্য ত্যাগ স্বীকার করেছি।
    আজ যখন সেই মানুষদেরই দলে স্থান দেওয়া হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে এতদিন আমাদের আন্দোলন ছিল, তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে—তাহলে আমাদের সেই সংগ্রাম, ত্যাগ ও আত্মনিবেদন কি অর্থহীন হয়ে গেল?
    নেতৃত্বের কাছে একটাই আবেদন—দলের শক্তি শুধু সংখ্যা বাড়ানোয় নয়, আদর্শ ও বিশ্বাসকে অটুট রাখার মধ্যেই নিহিত। যারা নিষ্ঠা, সময় ও পরিশ্রম দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের অনুভূতি ও আত্মসম্মানের মূল্য যেন উপেক্ষিত না হয়....'

    কৌশিক সরকার নামে আরও একজন লেখেন, 'ছোট থেকেই এই বিজেপি দলকে ভালোবাসি এবং বড় বয়সেও কম বেশি দলের সাথে যুক্ত ছিলাম আর আছি। সেটা দলের কর্মীরা জানে। তবে কোনওদিন দলের বিপক্ষে যায়নি কিন্তু এই ভাল তৃণমূল (তোলামূল) দের দেখে বলতে বাধ্য হচ্ছি, এই বিজেপি দল বেশি দিন ক্ষমতা তে থাকতে পারবে না।'

    কী লিখলেন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়?
    এই যোগদানের বিষয়টা নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সমাজকর্মী সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'সমস্যা কিন্তু গভীরে যাচ্ছে।
    নির্বাক ভোটাররা Silently সব দেখছেন। মাপছেন। 
    যাঁরা কর্মী তাঁদের এক নির্দেশ দিচ্ছেন। আর নিজেরা উল্টো পথে হাঁটছেন। যে সব ভক্তকূল অন্ধ নন তাঁরা কি রিএক্ট করছেন চোখ বোলান তাঁদের লেখায়। কিছুটা ইঙ্গিত পাবেন। এখন নয়, কঠিন সময়ে এর ফল পাবেনই পাবেন...  
    ভাববেন। ভাবা প্র্যাকটিস করুন বললে আবার ডিম থেরাপি বা ইট থেরাপি হতেই পারে। তাই ওটি আর লিখলাম না । 
    লিখলাম শুধু ভাববেন 
    সব কিছু ঠিক করছেন কি না।'

    তবে এই ন্যারেটিভের পাল্টা একটা মতও রয়েছে। অনেকে দাবি করছেন, লোকসভা এবং রাজ্যসভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করাতে হবে। সেই কারণেই বিজেপিতে এই যোগদান পর্ব চলছে। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই। এখন দেখার এই ন্যারেটিভ বিজেপির সাধারণ কর্মী সমর্থকেরা শোনেন কি না।


     
  • Link to this news (আজ তক)