এই সময়, তারাপীঠ: দান ও তহবিলের টাকা ব্যাঙ্কে নিয়মিত জমা না–পড়ার অভিযোগ উঠেছিল তারাপীঠ মন্দিরে। এ বার আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্দির কমিটি। সম্প্রতি মন্দির কমিটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা পড়ার খবরে চর্চা শুরু হয়। নতুন মন্দির কমিটি প্রণামীর টাকা নিয়ম মেনে ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া, ডিজিটাল লেনদেন, পৃথক খাতে আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তারাপীঠ মন্দিরে নতুন কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক হন সেবাইত পুলক চট্টোপাধ্যায়। আর্থিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে মন্দির কমিটির প্রথম বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, প্রতিদিন মন্দিরে জমা হওয়া দান ও প্রণামীর টাকা সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মন্দিরের নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে সেই অর্থ জমা করা হবে।
পাশাপাশি, মন্দিরের বিভিন্ন তহবিলের জন্য পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হবে, যাতে প্রতিটি খাতের আয়-ব্যয়ের হিসেব আলাদা ভাবে সংরক্ষণ করা যায়। তারাপীঠ মন্দিরের তহবিলের অর্থ সংরক্ষণের জন্য বর্তমানে পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কিন্তু ব্যাঙ্কের গত ১৫ বছরের হিসাব ও ব্যাঙ্কের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হলে দেখা যায়, মন্দিরে জমা হওয়া দানের টাকা নিয়মিত ভাবে ব্যাঙ্কে জমা হচ্ছিল না।
মন্দির কমিটির সম্পাদক বলেন, ‘এ বার থেকে প্রতি দিনের আয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাঙ্কে জমা করা হবে। বিভিন্ন তহবিলের টাকা আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্টে রাখা হবে। ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলে পরের কর্মদিবসে টাকা জমা হবে। প্রায় ১৫ বছর আগে এই নিয়ম চালু ছিল, কিন্তু পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।’ তাঁর কথায়, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে এবং ডিজিটাল লেনদেনও শুরু করা হবে। সেই উদ্দেশ্যে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে।’ একই সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে অসমাপ্ত পড়ে থাকা মন্দির কমিটির অফিস নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্দির কমিটির দাবি, ভবিষ্যতে ছোটখাটো দৈনন্দিন খরচ নগদে মেটানো হলেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বড় অঙ্কের সমস্ত অর্থের লেনদেন শুধুমাত্র চেকের মাধ্যমে করা হবে। এর ফলে প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের নথিভুক্ত রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে কোনও ধরনের বিতর্ক বা জল্পনার সুযোগ থাকবে না।