• ‘আমি নির্দোষ’, সুপ্রিম কোর্টে সোনমের দাবিতে ‘হানিমুন মার্ডার’ কেসে নয়া মোড়
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • মেঘালয়ে হানিমুনে গিয়ে স্বামীকে খুনের ছক কষার অভিযোগ। বহুচর্চিত রাজা রঘুবংশীর হত্যা মামলা অর্থাৎ মেঘালয় হানিমুন মার্ডার কেসে ফের নতুন মোড়। সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা হলফনামায় নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত স্ত্রী সোনম রঘুবংশী। তাঁর বক্তব্য, তাঁকে ঘিরে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। পাশাপাশি মেঘালয় সরকারের দায়ের করা আবেদনেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি।

    মেঘালয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে সোনমের জামিন বাতিলের আবেদন জানিয়েছে। সরকারের অভিযোগ, এত গুরুতর মামলায় অভিযুক্তকে জামিন দিলে তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে। তবে তার জবাবে সোনম দাবি করেছেন, ‘আমি নির্দোষ এবং আমাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।’ এ ছাড়াও সোনম আদালতে জানিয়েছেন, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং জামিনের কোনও শর্ত ভঙ্গ করেননি। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র জনমতের চাপে তাঁকে আবার জেলে পাঠানো উচিত নয়।

    হলফনামায় সোনম আরও দাবি করেছেন, তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তাই শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া সংবিধানের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। সুপ্রিম কোর্টকে তার পক্ষে দেওয়া জামিনের আদেশে হস্তক্ষেপ না করার জন্য অনুরোধ করেছেন স্বামী খুনে অভিযুক্ত তরুণী।

    এর আগে মেঘালয় হাইকোর্ট একটি আইনি ত্রুটির উল্লেখ করে সোনমকে জামিন দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, গ্রেপ্তারের সময় আইন অনুযায়ী, অভিযোগের কারণ যথাযথভাবে তাঁকে জানানো হয়নি। সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় মেঘালয় সরকার। গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অবিলম্বে জামিনে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে, কারণ ততদিনে সোনম জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

    বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানিতে সোনমের হলফনামা রেকর্ডে নেওয়া হয়েছে। মামলায় এখনও ৯৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ বাকি রয়েছে বলে আদালতে জানিয়েছে মেঘালয় সরকার। সেই কারণেই সরকার দাবি করেছে, বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের জামিন বহাল থাকলে সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে বিয়ের পরে হানিমুনে মেঘালয়ে গিয়েছিলেন ইন্দোরের নবদম্পতি রাজা ও সোনম রঘুবংশী। কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পরে গভীর খাদ থেকে রাজার দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে মেঘালয় পুলিশ অভিযোগ করে, প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা ও আরও কয়েকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে সোনমই ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে স্বামীকে খুন করান। যদিও সোনম শুরু থেকেই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এখনও চলছে।

  • Link to this news (এই সময়)