বারুইপুরে গণপিটুনি ও পুলিশের উপরে হামলায় জড়িতদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অন্তত ২০০ জন অভিযুক্ত বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকেই চলছে লাগাতার ধরপাকড়। গণপিটুনি ও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। এই নিয়ে মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫ জন।
নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত গোটা রাজ্য। গত রবিবার পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধারের পরে রাস্তা অবরোধ করে উত্তেজিত জনতা। রেললাইন উপড়ে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এই সবের মধ্যেই খুন-ধর্ষণে জড়িত সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়। অভিযোগ, পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে হামলা হয় তাদের উপরেও। পুলিশ কর্মীদের মারধর, গাড়ি ভাঙচুর বাদ যায়নি কিছুই।
গণপিটুনি এবং পুলিশকে মারধরের ঘটনায় দু’টি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। রাতে আরও পাঁচ জনকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতদের আপাতত জেরা করা হচ্ছে। ঘটনায় আর কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলছে। পুলিশ সূত্রের খবর, আরও একাধিক গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, শনিবার থেকে নিখোঁজ ছিল বারুইপুরের ১১ বছরের এক কিশোরী। রবিবার পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ধর্ষণের পরে খুন করা হয়েছে তাকে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা।
ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার ছাড়াও প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লা নামে আরও তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুননির্মাণের সময়ে পুলিশের বন্দুক নিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠে প্রভাসের বিরুদ্ধে। পুলিশের এনকাউন্টারে তিনি মারা যান।