• ‘ডিজে’ মামলা: হাইকোর্টের ধমক খেয়ে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেবেন অভিষেক, আর্জি, ‘ডিম যেন ছোড়া না হয়’
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • তদন্তে সহযোগিতার স্বার্থেই আদালত রক্ষাকবচ দিয়েছিল। তার পরেও সহযোগিতার বদলে নতুন মামলা করায় কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জেরে ‘ডিজে’ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে যে মামলা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হলেন তাঁর আইনজীবী। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই তাঁর মক্কেল কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে যাবেন। পাশাপাশি, রাস্তাঘাটে অভিষেককে লক্ষ্য করে যাতে ডিম ছোড়া না হয়, সেই আর্জিও জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী। তার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ, অভিষেককে যাবতীয় নিরাপত্তা দিতে হবে।

    গত বিধানসভা ভোটের প্রচারে ‘ডিজে’ সংক্রান্ত মন্তব্য করায় মামলা হয়েছে অভিষেকের বিরুদ্ধে। তার তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তেরই স্বার্থে তারা অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে চেয়েছিল। ঘটনাচক্রে, তার আগে এই মামলায় সাংসদকে তদন্তে সহযোগিতার শর্তে রক্ষাকবচ দেয় হাইকোর্ট। সেই মতো সিআইডি-র তলবেও সাড়া দেন অভিষেক। কিন্তু কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে চাননি তিনি। তিনি জানিয়েছিলেন, ‘ডিজে’ মন্তব্য তিনিই করেছেন। সেই কণ্ঠস্বর যে তাঁরই, সেই কথা তিনি অস্বীকার করেননি। তাই আর নমুনা দিতে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। অভিষেককে দু’বার আদালত হাজিরার নির্দেশ দিলেও, তা এড়িয়ে যান তিনি। এই বিষয়টি নিয়েই শুক্রবার অভিষেককে ভর্ৎসনা করেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে আগামী ১৫ জুলাই দুপুর ১২টায় নিম্ন আদালতে যেতে হবে অভিষেককে।

    বিচারপতি ভট্টাচার্য বলেন, ‘গত ২১ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়ার পরেও, নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা আসলে বিচারব্যবস্থাকে ব্যতিব্যস্ত করা ছাড়া আর কিছু নয়। হাইকোর্ট যেখানে রক্ষাকবচ দিচ্ছে, সেখানে নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা মানে উচ্চ আদালতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তে তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। উনি সেই নিরাপত্তাও নিচ্ছেন, অথচ তদন্তে সহযোগিতা না করে নতুন নতুন মামলা করছেন। ৩১ জুলাই পর্যন্ত রক্ষাকবচ পেয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার পরেও এই আচরণ কেন?’

    আদালতের এই ভর্ৎসনার পরে অভিষেকের আইনজীবী জানান, তাঁরা মামলা প্রত্যাহার করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরাই ভুল পরিচালনা করেছি আমাদের মক্কেলকে। তাঁর কোনও দোষ নেই।’ পাল্টা বিচারপতি বলেন, ‘তার মানে রক্ষাকবচ দেওয়ার পরেও তদন্তে সহযোগিতা করতে আপনারা বাধা দিয়েছেন বোঝাতে চাইছেন?’ তার পরেই অভিষেকের আইনজীবী বিচারপতির উদ্দেশে বলেন, ‘নমুনা দিতে গেলে আমার মক্কেলকে যাতে ডিম ছোড়া না হয়, সেই নিরাপত্তা দেওয়া হোক।’ এ ব্যাপারে রাজ্যকে পদক্ষেপ করতে বলেছে আদালত।

  • Link to this news (এই সময়)