বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনের ঘটনার প্রতিবাদে রেল অবরোধ, ট্রেন চলাচলে বাধা, এমনকী রেলের সম্পত্তি নষ্টেরও অভিযোগ উঠেছিল। তার ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল রেল পুলিশ। শুক্রবারই তাঁদের শিয়ালদহ আদালতে হাজির করানো হবে বলে জানিয়েছে বারুইপুর জিআরপি।
বারুইপুরে মোট চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথমটি হলো, নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ধৃত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত। দ্বিতীয় মামলাটি হলো, প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সময়ে গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যু। সেই ঘটনায় ২ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তৃতীয় মামলা— পুলিশের উপর হামলা, রাস্তা অবরোধ এবং গাড়ি ভাঙচুর। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৩৫ জন। আর চতুর্থ মামলা হলো, রেল অবরোধ এবং রেলের সম্পত্তি নষ্ট।
বিক্ষোভ করতে গিয়ে যাঁরা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করেছিলেন, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না বলে আগেই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশৃঙ্খলার ঘটনায় অন্তত ২০০ জন চিহ্নিতও হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি। তার পর থেকেই লাগাতার ধরপাকড় চলছে। গণপিটুনি ও হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বারুইপুরে গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিতের বাড়িতে শুক্রবার গেলেন আইজি প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই। শনিবার বারুইপুরে নির্যাতিতা এবং ইন্দ্রজিতের বাড়ি যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। সেই কারণে সরকারের তরফেই ইন্দ্রজিতের বাড়ি মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির সামনে পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছএ। বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। খাবার এবং জামাকাপড়ও দেওয়া হয়েছে ইন্দ্রজিতের পরিবারের লোকেদের। এই সব ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতেই শুক্রবার ইন্দ্রজিতের বাড়ি যান পুলিশকর্তা।
শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পরে রবিবার বাড়ির অদূরে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ১১ বছরের কিশোরীর দেহ। সেই ঘটনায় ধর্ষণের পরে খুনের মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তে নেমে প্রভাস ছাড়াও আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং কবীর মোল্লা নামে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার মধ্যেই মঙ্গলবার রাতে ঘটনার পুননির্মাণের সময়ে পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হয় প্রভাস। পুলিশ সূত্রে খবর, এক তদন্তকারী অফিসারের সার্ভিস রিভলভার নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল সে। সেই সময়ে আত্মরক্ষার্থে তাকে গুলি করা হয়।