ধর্মতলায় প্রশাসন নারাজ। অন্তত ইঙ্গিত তেমনই। এ দিকে সেখানে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনেই ২১ জুলাইয়ের সভা করতে চেয়ে এ বার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। শুক্রবার উচ্চ আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করেছেন তৃণমূলের কালীঘাট শিবির ঘনিষ্ঠ সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে মামলার শুনানি হবে। মমতাপন্থী তৃণমূল আদালতে জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে সভা করার অনুমতি চেয়েছে। কিন্তু তার এখনও কোনও জবাব আসেনি। সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা। প্রসঙ্গত, মমতাপন্থী তৃণমূল পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়ার পরেই সেই শিবিরের নেতা কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়েরা ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে চলে গিয়েছিলেন ফিতে নিয়ে। মঞ্চ বাঁধার জন্য কতটা জায়গা লাগতে পারে, তা ফিতে দিয়ে মাপতে দেখা গিয়েছিল তাঁদের। তা নিয়ে পরে বিধানসভায় ক্ষোভও উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, ‘এ ভাবে যেখানে সেখানে রাস্তা মাপতে চলে যাওয়া যায় না। রাস্তা আটকে তো আরওই নয়। (কুণালদের উদ্দেশে) অনুমতি চেয়েছেন, কোথায় করবেন বলে দেব।’ যদিও কুণালদের যুক্তি ছিল, তাঁরা রবিবার দুপুরে একেবারে ফাঁকা নির্জন ধর্মতলা চত্বরে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে রাস্তা আটকানোর মতো কিছুই ঘটেনি। আর তাঁদের সে রকম কোনও উদ্দেশ্যও ছিল না।
ঘটনাচক্রে, বিধানসভায় শুভেন্দুর বার্তার পরেই ধর্মতলা-সহ মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ২ জুলাই থেকে ৩০ অগস্ট পর্যন্ত— ৬০ দিনের জন্য জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। অন্য দিকে, নির্দেশ অমান্য করে ধর্মতলায় ২১ জুলাই পালন নিয়ে আরও একটি মামলা চলছে হাইকোর্টে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৮ সালে উচ্চ আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা অমান্য করে ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সম্পূর্ণ রাস্তা আটকে ২০২৫ সালেও ‘শহিদ দিবস’ পালন করা হয়েছে। আদালত অবমাননার সেই মামলায় গত ১৯ মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস দিয়েছিল হাইকোর্ট। পরে তৃণমূলনেত্রী মমতার কাছে হলফনামাও চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির জানিয়েছে, ২১ জুলাইয়ে কর্মসূচি তারাও করবে। তবে সম্ভবত প্রশাসনের সঙ্গে কোনও রকম সংঘাতের পথে তারা যাবে না।