কলকাতা মেট্রোর মুকুটে নয়া পালক। জোকা-এসপ্ল্যানেড পার্পল লাইনে নির্মীয়মাণ ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল মেট্রো স্টেশনের মাটি ছুঁল টানেল বোরিং মেশিন ‘দুর্গা’। গত বছরের এই দিনেই (১০ জুলাই) খিদিরপুর থেকে মাটির নীচে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুরু হয়। ঠিক এক বছরের মাথায় সফল ভাবে প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হলো।
ইঞ্জিনিয়ারিং পরিভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় ‘টানেল ব্রেকথ্রু’। সহজ কথায়, মাটির তলায় সুড়ঙ্গ খুঁড়তে খুঁড়তে বিশালাকার টানেল বোরিং মেশিন যখন শেষ দেওয়াল বা পাথরের বাধাটি কেটে কাঙ্ক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্টেশনে পৌঁছয়। এ দিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ভিক্টোরিয়া স্টেশনের সুড়ঙ্গের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছয় দুর্গা। উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রেমসাগর গুপ্ত এবং রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডের কর্তারা।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন জানান মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রেমসাগর গুপ্ত। তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিয়ে রেখে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ হচ্ছে। শহরে যান চলাচলে কোনও প্রভাব যাতে না পড়ে, সেই দিকেও খেয়াল রাখা হয়েছিল।’ এই সাফল্যকে দলগত কাজ এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফসল বলে জানিয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডোর ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। এর মধ্যে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার অংশ ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। এখন মোমিনপুরে বাকি থাকা একটি এলিভেটেড স্টেশন এবং মাঝেরহাট থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
জমি সংক্রান্ত জটিলতা-সহ একাধিক কারণে দীর্ঘদিন ধরেই জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। এই পরিস্থিতিতে ভিক্টোরিয়া স্টেশনে টিবিএম ‘দুর্গা’-র সফল ব্রেকথ্রুকে প্রকল্পের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন মেট্রো কর্তারা। তাঁদের মতে, এর ফলে পার্পল লাইনের নির্মাণকাজে গতি আসবে। পাশাপাশি এই প্রকল্প সম্পূর্ণ হলে কলকাতার গণপরিবহণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী, দ্রুত এবং পরিবেশবান্ধব হয়ে উঠবে বলেও মত মেট্রো কর্তৃপক্ষের।