আগামী ৩ দিন টানা দুর্যোগের পূর্বাভাস, নদীর জলস্তর বাড়ছে, কোথায় কত বৃষ্টি?
আজ তক | ১০ জুলাই ২০২৬
রাতভর ভারী বৃষ্টিতে ভিজেছে কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মতো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয় টানা বর্ষণ, যা শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে সকালেও বৃষ্টির দাপট বজায় রয়েছে।
আরও কয়েক দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এখনই বৃষ্টি থামার সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশ ও সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত এবং সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির দাপট চলবে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।
শুক্রবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। শনিবার ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায়। পাশাপাশি বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম-সহ দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
উত্তরবঙ্গে একাধিক জায়গায় অতি ভারী বৃষ্টির জেরে নদীগুলির জলস্তরও দ্রুত বাড়ছে।
কলকাতায় জল জমতে শুরু
টানা বৃষ্টিতে কলকাতার কয়েকটি এলাকায় জল জমেছে। এখনও বড় ধরনের জলাবদ্ধতার খবর না মিললেও, সকাল থেকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, হলদিরাম মোড় এবং সেক্টর ফাইভ মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় জল জমার খবর পাওয়া গেছে।
দিঘায় সমুদ্রে নামায় সতর্কতা
উত্তাল সমুদ্রের জেরে পূর্ব মেদিনীপুর উপকূলে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন। ১২ জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের সতর্ক করা হচ্ছে।
ফুলে-ফেঁপে উঠছে সুবর্ণরেখা ও অজয়
টানা বর্ষণের জেরে ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম ব্লকে সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়েছে। প্রবল স্রোতে দেউলবাড় ও গড়ধরা গ্রামের সংযোগকারী ফেয়ার ওয়েদার ব্রিজ জলের তলায় চলে যাওয়ায় ওই এলাকায় যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখন নৌকা।
অন্যদিকে, অজয় নদীর জলও ক্রমশ বাড়ছে। পূর্ব বর্ধমানের একাধিক এলাকায় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বহু জায়গায় বাঁধের উচ্চতা কমে যাওয়া এবং ভাঙা অংশ এখনও মেরামত না হওয়ায় বর্ষা যত বাড়ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে নদী-তীরবর্তী গ্রামগুলিতে।