• 'ভাল তৃণমূল'-দের জন্য কি BJP-র দরজা খুলে গেল? মুখে কুলুপ রাজ্যের নেতাদের
    আজ তক | ১০ জুলাই ২০২৬
  • ২০২১ সালের নির্বাচনে আগে তৃণমূল ভাঙা প্রবল ভাবে চলেছিল। তৃণমূলের একের পর এক বড় নেতা  BJP-তে যোগ দিয়েছিলেন। সেই নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। আদি বিজেপি নেতা, কর্মীরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তখন রাজ্য সবাপতি ছিলেন আজকের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁকেও রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ভোটের আগে দেখা গিয়েছিল, একুশের মতো স্ট্র্যাটেজি নেয়নি গেরুয়া শিবির। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বড় নেতাদের যোগদান করানো হয়নি। ক্ষমতায় আসতেই কি স্ট্র্যাটেজি বদলে গেল? 

    মুখে কুলুপ এঁটেছেন রাজ্য বিজেপি-র শীর্ষ নেতারা

    পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশচিক বরাইক তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন। যোগ দিয়েই রাজ্যসভার টিকিটও পেয়ে গেলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। বিজেপি-র রাজ্য নেতৃত্বের অন্যান্য নেতারা অবশ্য এই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহাকে এই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তাঁর স্পষ্ট উত্তর, 'এই বিষয়টি নিয়ে আমি কিছু বলব না। আমার কিছু বলার নেই।' আবার রাজ্য বিজেপি-র মুখপাত্র দেবজিত্‍ সরকার বলছেন, 'রাজ্য সভাপতির উপরে আর কিছু বলার নেই। উনি যা বলার বলে দিয়েছেন। রাজ্য সভাপতিই শেষ কথা।' স্পষ্টতই এড়িয়ে গেলেন।

    সুখেন্দুশেখরদের নিয়ে শমীক ঠিক কী ব্যাখ্যা দিলেন? 

    'ভাল তৃণমূল', 'খারাপ তৃণমূল' বিতর্কের মধ্যেই সুখেন্দুশেখর, সুস্মিতা, প্রকাশচিকরাই হলেন প্রথম ৩ নেতা, যাঁরা পালাবদলের পরে বিজেপি-তে যোগ দিলেন। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূলের নেতা কর্মীদের জন্য দরজা বন্ধ থাকা বিজেপি-তে কি এ বার দরজা খুলে দেওয়া হল? স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বক্তব্য, 'এই যোগান কোনও ব্যতিক্রমী বা বিচ্যুতি নয়।' তাঁর কথায়, 'তৃণমূলের যাঁরা দুর্নীতি করেননি, মানুষের উপরে অত‍্যাচার করেননি, চাকরি বিক্রি করেননি, মানুষের অধিকার কেড়ে নেননি, তাঁদের কাছে আমাদের আহ্বান ছিল, আপনারা এগিয়ে আসুন, তৃণমূলকে সরিয়ে দিন। তাঁরা আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন। সে রকম যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের তো আমরা আগেই পাশে চেয়েছিলাম। সুতরাং তাঁদেরকে দলে স্বাগত জানানোর মধ্যে কোনও সমস্যা নেই।'

    'ভাল তৃণমূল' ইস্যুতে এর আগে শমীক যা বলেছিলেন

    বস্তুত, ৪ মের পরের শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য ও ৯ জুলাইয়ের শমীকের বক্তব্যে বিস্তর বদল রয়েছে। একটি টিভি চ্যানেলকে সাক্ষাত্‍কারে শমীক বলেছিলেন, '৪ মে দুপুর ১২টার পরে যারা বিজেপি-তে যোগ দিয়েছেন,তারা বিজেপি নয়। আগামী ৩ মাস তৃণমূল কংগ্রেস শুধু নয়, অন্য দল থেকেও কেউ আসেন, যোগদান বন্ধ।'

    ভাল তৃণমূল বিতর্ক কীভাবে শুরু হয়েছিল?

    বিজেপি-র রাজ্যসভাপতি বলেছিলেন, 'তৃণমূলের কেউ যদি আমাদের দলে আসতে চায়, তবে তা নিয়ে দল অবশ্যই ভাবনাচিন্তা করবে। কিন্তু সেই কাজ এখনই হচ্ছে না। যারা এতদিন সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিল, কয়লা কিংবা বালির মারাত্মক দুর্নীতিতে জড়িত ছিল, কিংবা যারা গরিব মানুষের চাকরি চুরির কারবারে লিপ্ত ছিল, তাদের জন্য ভারতীয় জনতা পার্টির দরজা কোনও অবস্থাতেই খোলা থাকবে না। তবে তৃণমূলের মধ্যে এখনও এমন বহু সৎ মানুষ আছেন, যারা অতীতেও ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির বাধ্যবাধকতায় বা ভয়ের কারণে তাঁরা এতদিন মুখ খুলতে পারেননি। আবার কেউ কেউ প্রতিবাদী হয়ে মুখ খুলে দলেরই চরম বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন। এই ধরণের মানুষরা যদি আমাদের দলের দরজায় কড়া নাড়েন, তবে তাঁদের নেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ভাবা রয়েছে।' শমীকের এই মন্তব্য থেকেই ভাল তৃণমূল বিতর্ক শুরু হয়। যা নিয়ে প্রকাশ্যেই উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। বলেছিলেন, 'দলের রাজ্য সভাপতি ঠিক কোন পরিপ্রেক্ষিতে বা কেন এমন কথা বলেছেন, তা তিনিই ভাল বলতে পারবেন। তবে আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, তৃণমূলের কোনও লোককেই এখন দলে না নেওয়াটাই সবথেকে ভাল সিদ্ধান্ত হবে।'
  • Link to this news (আজ তক)