• একসঙ্গে ১২টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল পুলিশ, আরও চাপে পড়ল কালীঘাট তৃণমূল
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১০ জুলাই ২০২৬
  • কালীঘাট তৃণমূলে স্বস্তি ফিরছে না। রাতে স্বস্তি পেলেও দিনে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি। কারণ এবার কালীঘাট তৃণমূলের ১২টি অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে ফ্রিজ করল পুলিশ। এই ঘটনায় নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হলো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তিনটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে স্বস্তি ফিরলেও আবার নতুন করে অস্বস্তিতে পড়ল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস। একসঙ্গে ১২টি অ্যাকাউন্ট তদন্তের স্বার্থে ফ্রিজ করা হয়েছে বলে খবর। কারণ সন্দেহজনক লেনদেনের কথা উল্লেখ করে ঋতব্রত শিবিরের পক্ষের বিধায়ক অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তার ভিত্তিতেই এবার ১২টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।

    এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে দলের খরচ চালানো হয়। দলের পদাধিকারীরা বেতন পান এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে। সুতরাং ১২টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় সরাসরি প্রভাব পড়বে বেতনে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু আবার কেন এমন করা হলো? পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তের প্রয়োজনে নতুন করে এই ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য আবেদন করা হয়েছিল সংশ্লিষ্ট বেসরকারি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্কে। পুলিশের কাছে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার ভিত্তিতে আবেদন করে পুলিশ। সেই আবেদন মেনে ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ।

    কালীঘাট তৃণমূলের অধীনে ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে আগে তিনটি ফ্রিজ করা হয়েছিল। সেগুলি আদালতের নির্দেশে ছাড়া পেলেও এখন নতুন করে ১২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলো। তার ফলে এই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে কোনও লেনদেন করা যাবে না। এই বিষয়েও মামলা করতে হবে কালীঘাট তৃণমূলকে। তখন যদি আবার খুলে দেওয়ার নির্দেশ পায় তারা তাহলেই তা সম্ভব হবে। এই মোট ১৫টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০০০ কোটি টাকার বেশি অর্থ রয়েছে বলে রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর। তার মধ্যে তিনটি এখন আদালতের নির্দেশে ব্যবহার করতে পারছে কালীঘাট তৃণমূল।

    তাছাড়া যে তিনটি অ্যাকাউন্টে ছাড় মিলেছে সেখানে রয়েছে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা। এই অ্যাকাউন্টগুলি এখন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে একজন স্পেশ্যাল অফিসারকে নিযুক্ত করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে এই অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি নিযুক্ত থাকবেন এই দায়িত্বে। আসলে এই অ্যাকাউন্টগুলিতে লেনদেন নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠায় তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেক্ষেত্রে এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আদালতের উপর।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)