উত্তরবঙ্গে অতিভারী বৃষ্টির জেরে জলঢাকা নদী বিপদসীমায়, পাহাড়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১০ জুলাই ২০২৬
একদিন আগেই নাগাড়ে বৃষ্টির জেরে ধস নেমেছিল ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। তার জেরে যাতায়াতের পথ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। সেই পথ মেরামতি করার পরই শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে অতিভারী বৃষ্টি। আর তার জেরে পাহাড় থেকে সমতল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভারী বৃষ্টির জেরে ফুঁসছে বেশ কয়েকটি নদী। উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় অতিভারী বৃষ্টির জেরে জলপাইগুড়ির জলঢাকা নদীর জল বিপদসীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছে। আর দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলার একাধিক এলাকায় নদীভাঙনের ঘটনা ঘটেছে বলে খবর। এখন এই পরিস্থিতির উপর নজরদারি রাখছে সেচ দপ্তর এবং জেলা প্রশাসন।
ভারী বৃষ্টি যখন চলছিল তখন পথঘাট থেকে শুরু করে জাতীয় সড়কের হাল বেহাল হয়ে পড়ছিল। কিন্তু অতিভারী বৃষ্টি শুরু হতেই ভযঙ্কর অবস্থা তৈরি হয়েছে পাহাড়ে। এই বৃষ্টি দেখে বহু পর্যটক আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কারণ তাঁদের হোটেল বন্দি হয়ে থাকতে হয়েছে। এখন এই আবহে কেমন করে নিজেদের বাড়ি ফিরবেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর চিন্তা। সেচ দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কোচবিহার জেলায়। কোচবিহারে ১৪৩.০০ মিলিমিটার এবং শীতলকুচিতে ১৪২.২০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। যা আবহাওয়াবিদদের মতে, অতিভারী বৃষ্টি।
এই অতিভারী বৃষ্টির জেরে শুধু সমতলেই বানভাসী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নয়, পাহাড়েও জটিল হয়ে পড়েছে অবস্থা। আলিপুরদুয়ারে ১১২.২০ মিলিমিটার, বানারহাটে ৯৩.০০ মিলিমিটার ও মাদারিহাটে ৮০.১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। নাহাড়ে বৃষ্টির জেরে জলপাইগুড়ির ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের সাপ্টিয়াবাড়ি এলাকায় জলঢাকা নদীর জল বিপদসীমার খুব কাছে চলে এসেছে। সেচ দপ্তরের রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, নদীর জলস্তর লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর তার ফলে সমতল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের। পাহাড়েও বৃষ্টির পরিমাণ বেড়েছে। তাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তাছাড়া নদীভাঙনের ঘটনাও সামনে এসেছে। জলপাইগুড়ির বানারহাটের গয়েরকাটা টি-গার্ডেন এলাকায় আংরাভাসা নদীর প্রায় ২০০ মিটার জুড়ে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ির হাতিঘিসা গ্রাম পঞ্চায়েতের লোহাসিং জোত এলাকায় চেঙ্গা নদীর প্রায় ১৫০ মিটার ভাঙন দেখা দিয়েছে। মাটিগাড়া ব্লকের আঠারখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের জ্যোতিনগর কলোনিতে বালাসন নদীর প্রায় ৪৫০ মিটার, সেবক বাজার এলাকায় তিস্তা নদীর প্রায় ১৫০ মিটার এবং পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের সালবাড়ি এলাকায় পঞ্চানই নদীর প্রায় ১২০ মিটার ভাঙনের খবর পাওয়া গিয়েছে। এমনকী লোয়ার বাগডোগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের ভুজিয়াপানি এলাকায় হুলিয়া নদীর দুই তীর মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ মিটার ভাঙন হয়েছে। পোরাঝার এলাকায় মহানন্দা নদীর পোরাঝার বাঁধে প্রায় ৬০ মিটার রেইন কাট ধরা পড়েছে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর এলাকায় গদাধর নদীতেও ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে।