ডিম ছোড়ায় বাধা দিতেই বিজেপি নেতার হুঙ্কার, ‘সরকারি নির্দেশ, ইনচার্জে আছি’, তারপর যা হল…
প্রতিদিন | ১০ জুলাই ২০২৬
পূর্ব মেদিনীপুরের (Purba Medinipur) বালিসাইয়ে তৃণমূল নেতাকে ‘ডিম থেরাপি’। প্রবীণ নেতাকে ডিম ছুড়ে, মুখে ডিম মাখিয়ে হেনস্তা! ডিম ছোড়েন বিজেপি নেতা সুব্রত দাস। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেন স্থানীয়রা। তারপরই সুব্রতকে বলতে শোনা যায়, “সরকারি নির্দেশ, আমি ইনচার্জে আছি।”
ডিম ছোড়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশাল মিডিয়ায়। তারপরই বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের চাপে ক্ষমা চাইলেন ওই বিজেপি নেতা। জেলা সভাপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে চিঠির পাশাপাশি ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, “ডিম ছোড়ার ঘটনা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে দল ও সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত রাগের কারণে এই ঘটনা। ভব্যিষতে এই ঘটনা ঘটবে না।”
রামনগর দুই ব্লকের তৃণমূল নেতা মানস দাস। তিনি রামনগর দুই ব্লকের ভূমি কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। বিএলআরও অফিসের সামনে ওই তৃণমূল নেতাকে পেয়ে, ডিম ছোড়েন বিজেপি নেতা সুব্রত। মানসের মাথায় ও মুখে ডিম মাখিয়ে হেনস্তা করেন তিনি! ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, ঘটনার প্রতিবাদ করেন স্থানীয়রা। উপস্থিত কয়েকজন সুব্রতকে বলেন, কেন ডিম মারলেন তিনি? সেই সময় বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা যায়, “এটা সরকারি অর্ডার, আমি ইনচার্জে আছি।” তা নিয়েও প্রতিবাদ চলে। অনেকেই জানান, নির্দেশ থাকলে সেই বিজ্ঞপ্তি দেখাক। হাতহাতিতেও জড়িয়ে পড়েন সুব্রত।
এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। তারপরই সুব্রত কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমনাথ রায়কে চিঠি লিখে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। একটি ভিডিও বার্তায় বলেছেন, “ব্যক্তিগত কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। দল বা সরকারের কোনও নির্দেশ নেই।” উল্লেখ্য, ডিম থেরাপি নিয়ে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব কড়া অবস্থান নিয়েছে। রাজ্য সভাপতি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে বারবার বলতে শোনা গিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা বিজেপি কোনও ভাবেই সমর্থন করে না। ডিম ছোড়াকে ‘অপসংস্কৃতি’ বলেও জানিয়েছেন তিনি।