স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভিজিটের পরেই শুরু অ্যাকশন, ডিউটিতে ফাঁকি দিয়ে ফাঁসলেন ১২ হাসপাতাল কর্মী
News18 বাংলা | ১০ জুলাই ২০২৬
স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শনের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই হাসপাতালের ১২ জন কর্মীকে একসঙ্গে শোকজ করল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি যেসব পরিকাঠামোগত অভাব ছিল হাসপাতালে. তারও একটি লিস্ট তৈরি করে এদিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে পাঠানোর বন্দবস্ত করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে জানা গিয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সারপ্রাইজ ভিজিটের পর তার নির্দেশ অনুসারে তদন্ত করে বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ১২ জনকে এইদিন শোকজ করা হয়।
যাদের মধ্যে চারজন ওয়ার্ড মাস্টার, চার জন নন মেডিক্যাল সুপার, একজন ইনফেকশন ইনচার্জ সিস্টার, দুজন সিস্টার ইনচার্জ এবং প্রসূতি বিভাগের একজন ফেসিলিটি কোয়ালিটি ম্যানেজার। এরা প্রত্যেকেই হাসপাতালের তাঁদের দায়িত্বে থাকা কাজ যথার্থভাবে করছিলেন না বলে অভিযোগ। তদন্তে সেই তথ্য উঠে আসার কারণে, মন্ত্রীর নির্দেশ মত তাঁদেরকে শোকজ করা হয় বলে জানিয়েছেন বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শন করে জানিয়ে দিয়েছিলেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, নোংরা আবর্জনা হাসপাতাল চত্বরে যেন না থাকে।
রোগী ও রোগী পরিজনরা চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে যাতে কোনওরকম সমস্যার সম্মুখীন না হন সে বিষয়েও নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই এদিন থেকে তৎপরতা চোখে পড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে। নিরাপত্তা থেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে অবস্থার দ্রুত বদল ঘটবে বলেই আশাবাদী কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের এই সিদ্ধান্তে খুশি রোগী থেকে রোগীর পরিজনেরাও। রোগী পরিজন সমর বিশ্বাস বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসলেও হাসপাতালে পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা।
খাওয়ার জল ঠিক মত মেলে না। ফলে কিনে খেতে হয় জল। হাসপাতালে দালাল চক্র সক্রিয়। বহু ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরিষেবায় ঢিলেমিও দেখা যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঘুরে যাওয়ার পর, হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। জেলার একটি বিস্তীর্ণ অংশের মানুষের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অন্যতম ভরসা বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আসার পর যদি হাসপাতালের এই নোংরা পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়, তবে রোগীর চিকিৎসা সহ রোগী পরিজনদেরও অনেক সুবিধা হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় মানুষজন।