: রথ ও দিঘা এখন যেন সমার্থক শব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণ অন্যতম জগন্নাথ মন্দির। দিঘা রথযাত্রা উপলক্ষে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের যাবতীয় প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। এবার রথযাত্রার আগেই দিঘার হোটেলগুলিতে চলল অভিযান! শুধু হোটেলগুলি নয়, ছাড়া পেল না খাবার দোকানগুলিও। পর্যটকদের ষষ্ঠ ও নিরাপত্তার দিকটি মাথায় রেখে এই অভিযান চালানো হয়। ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২০ টি হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালান হয় প্রশাসনের তিনটি দফতরের পক্ষ থেকে।
আসন্ন রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে দিঘায় পর্যটকদের ভিড় সামলাতে এবং তাঁদের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। নিউ দিঘার প্রায় ২০টি নামী হোটেলে একযোগে এক বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালান হয়। নন্দীগ্রাম খাদ্য সুরক্ষা শাখার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে শামিল হয়েছিল ক্রেতা সুরক্ষা দফতর, লিগ্যাল মেট্রোলজি দফতর, জেলা এনফোর্সমেন্ট শাখা এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। আর এই অভিযানে যা উঠে এল তাতে চক্ষু চড়ক গাছ প্রশাসনিক আধিকারিকদের।
দিঘার একাধিক নামকরা ও প্রথম সারির হোটেলের রান্নাঘর এবং পরিষেবা খতিয়ে দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত আধিকারিকেরা। পর্যটকদের পছন্দের হোটেল হওয়া সত্ত্বেও সেখানে চরম স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই। একপ্রকার যাবতীয় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করেই দিনের পর দিন খাবার তৈরি ও পরিবেশন চলছে। ওই সব হোটেল ও রেস্তোরাঁয় না রয়েছে বৈধ লাইসেন্স। না রয়েছে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, এমনকি কর্মীদের অজ্ঞতা চোখে পড়ার মতো। যৌথ অভিযানের পর খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে হোটেল কর্তৃপক্ষগুলিকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না জানান, “সামনেই রথযাত্রা। দিঘায় প্রচুর পর্যটক আসবেন। তাদের খাদ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তা দিতেই এই অভিযান। অভিযানে বিভিন্ন হোটেলে একাধিক অনিয়মের ছবি ধরা পড়েছে। সেই সব হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষদের করে করা বার্তা দেওয়া হয়েছে।” রথযাত্রার মরশুমে পর্যটকদের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনও রকম আপস করতে চাইছে না প্রশাসন। এই অভিযানের পরও যদি কোনও হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাদ্য সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘন করে ব্যবসা চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনও রকম রেয়াত না করে অবিলম্বে অত্যন্ত কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা যায় প্রশাসন সূত্রে।