রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর নতুন মন্ত্রিসভায় কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ময়ূরেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক দুধকুমার মণ্ডল। তবে মন্ত্রী হওয়ার পরেও তাঁর জীবনযাত্রায় আসেনি কোনও জাঁকজমক বা আড়ম্বর। সরকারি গাড়ি, কনভয় কিংবা কড়া নিরাপত্তার বদলে এখনও তিনি ভরসা রাখেন নিজের মেরুন রঙের স্কুটির উপর। সাধারণ পোশাক পরে, থলে হাতে বাজারে ঘুরে বেড়ানোই তাঁর নিত্যদিনের অভ্যাস।
সকালের দিকে সিউড়ির রাস্তায় ট্রাউজার্স, প্রিন্টের শার্ট এবং চোখে চশমা পরে এক ব্যক্তিকে স্কুটিতে ঘুরে বেড়াতে দেখে প্রথমে অনেকেই চিনতে পারেননি। কিন্তু কাছে গিয়ে বুঝতে পারেন, তিনি আর কেউ নন—রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। মন্ত্রী হয়েও তাঁর এই সহজ-সরল জীবনযাপন দেখে অবাক সাধারণ মানুষ।
সরকারি সুযোগ-সুবিধা হিসেবে নিরাপত্তারক্ষী, সরকারি গাড়ি-সহ নানা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও, সেসবের প্রতি বিশেষ আগ্রহ নেই কৃষিমন্ত্রীর। নিজের স্কুটি চালিয়েই কখনও বিজেপির পার্টি অফিস, কখনও সিউড়ির বাজার, আবার কখনও চায়ের দোকানে পৌঁছে যান তিনি। সম্প্রতি তাঁকে দেখা গেল স্থানীয় সবজি বাজারে। অন্য সাধারণ ক্রেতাদের মতোই উবু হয়ে বসে একে একে সবজি হাতে তুলে দেখলেন। পটল টিপে দেখলেন, ঢেঁড়স ভালো করে পরীক্ষা করলেন, মরশুমি ফল ও সবজির দাম জিজ্ঞাসা করে কিছুক্ষণ দরদামও করলেন। এরপর বিক্রেতাকে নির্ধারিত দাম মিটিয়ে থলে ভর্তি সবজি নিয়ে স্কুটিতে চেপে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
দুধকুমার মণ্ডলকে কাছ থেকে দেখেছেন এমন অনেকেরই দাবি, ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। মন্ত্রী হওয়ার পরেও সেই স্বভাবের কোনও পরিবর্তন হয়নি। তাই প্রোটোকলের আড়ালে না থেকে মানুষের মধ্যেই স্বচ্ছন্দে মিশে যান তিনি।
যে মানুষটিকে গত কয়েক মাস ধরে টেলিভিশনের পর্দায় কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দেখেছেন সাধারণ মানুষ, তাঁকেই হঠাৎ বাজারে দেখে উৎসুক হয়ে ওঠেন অনেকে। মুহূর্তের মধ্যে ভিড় জমে যায়।