• ‘রামের প্রতি ভক্তি’ই প্রথম শর্ত, রামমন্দির ট্রাস্টের CEO হতে গেলে আর কী কী যোগ্যতা লাগবে?
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • অযোধ্যার রামমন্দির ট্রাস্টে প্রথম পূর্ণসময়ের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক (CEO) নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর সেই পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘ভগবান রামের প্রতি অগাধ ভক্তি’-কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সার্চ কমিটির সদস্য তথা অবসরপ্রাপ্ত পরমাণু বিজ্ঞানী সুরেশ হাওরে। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র দক্ষ প্রশাসক হলেই চলবে না, রামমন্দিরের মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে হলে ভক্তি, সেবার মানসিকতা এবং সততাও থাকতে হবে।

    সুরেশ হাওরে বলেন, ‘শুধু একজন পেশাদার ব্যক্তি রামমন্দির পরিচালনা করতে পারবেন না। প্রথম প্রয়োজন ভগবান রামের প্রতি ভক্তি । দ্বিতীয় শর্ত সমাজসেবার মনোভাব এবং ভক্তদের প্রতি সম্মান। এরপর দেখা হবে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ, প্রশাসন ও মন্দির পরিচালনার অভিজ্ঞতা।’

    সম্প্রতি মন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত অর্থ তছরুপের অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের পরে প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। সেই কারণেই প্রথমবারের মতো একজন পূর্ণসময়ের CEO নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে মন্দির পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং পেশাদারিত্ব আনা যায়।

    সার্চ কমিটির সদস্য হাওরের মতে, প্রার্থীদের জন্য প্রায় ১০টি যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে সার্চ কমিটি । আবেদনপত্র আহ্বানের পরে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, রামমন্দির এখন দেশের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন প্রায় ২ লক্ষেরও বেশি ভক্ত এখানে আসেন, আর উৎসবের সময় সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা তিরুপতি বা শিরডির মতো বড় মন্দিরগুলির থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ।

    সার্চ কমিটির মতে, নির্বাচিত CEO-র মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলিতে দক্ষতা থাকা জরুরি—

    তিন সদস্যের সার্চ কমিটিতে রয়েছেন—অবসরপ্রাপ্ত পরমাণু বিজ্ঞানী সুরেশ হাওরে, সিকিম হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিচারপতি প্রদীপ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ও শিক্ষাবিদ বিষ্ণুকান্ত চতুর্বেদী। এই কমিটিই যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করে ট্রাস্টের কাছে সুপারিশ করবে।

    হাওরের কথায়, রামমন্দির কেবল একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের কেন্দ্র। তাই অনুদান সংক্রান্ত বিতর্কের পরে মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করাই নতুন CEO-র সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে। তাঁর কথায়, ‘বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে তা ফিরিয়ে আনতে অনেক সময় লাগে। তাই এমন একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভক্তদের আস্থা অটুট থাকে।’

  • Link to this news (এই সময়)