• Supreme Court: প্রধান বিচারপতির নামে গালিগালাজ, এজলাসে কাগজও ছুড়ে দিলেন মামলাকারী, বেনজির কাণ্ড সুপ্রিম কোর্টে
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • শুনানি চলাকালীন মেজাজ হারিয়ে প্রধান বিচারপতির নামে গালিগালাজ, তার পরে বিচারপতিদের লক্ষ্য করে কাগজ ছোড়া— শুক্রবার অভূতপূর্ব ঘটনার সাক্ষী রইল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তা-ই নয়, বিচারপতিদের ‘বিচারবিভাগের কর্মচারী’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের কার্যত নির্দেশও দিতে দেখা গেল প্রবাল প্রতাপ নামে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দাকে। কিন্তু এত কিছুর পরেও রেহাই মিলল। মানবিকতার খাতিরেই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করল না শীর্ষ আদালত।

    শুক্রবার সকাল ১১টা নাগাদ বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন এবং বিচারপতি অলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চে এই ঘটনা ঘটে। নিজের মামলা নিজে লড়তেই আদালতে সশরীরে হাজির হন প্রবাল। শুনানিও শুরু হয়। সেই সময়ে এজলাসে দাঁড়িয়েই বিচারপতিদের ‘বিচারবিভাগের কর্মচারী’ বলে সম্বোধন করে বসেন প্রবাল। যা শুনে স্বাভাবিক ভাবেই বিস্মিত হন উপস্থিত সকলে। তার পরেই বিচারপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মিস্টার জুডিশিয়াল সার্ভেন্ট, লখনউয়ের এএসপি-র বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিন।’

    এ কথা শোনা মাত্রই স্তম্ভিত হয়ে যান বিচারপতিরা। বিচারপতি বিশ্বনাথন প্রশ্নও করেন, ‘আপনি আমাদের আদেশ দিচ্ছেন?’ তা শুনেই প্রধান বিচারপতি সূূর্যকান্তের নামে গালিগালাজ শুরু করেন প্রবাল। ততক্ষণে তিনি এতটাই মেজাজ হারান যে, হাতে থাকা সব কাগজপত্রও বিচারপতিদের দিকে ছুড়ে মারেন। এর পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা কর্মীরা তৎক্ষণাৎ এজলাস থেকে বের করে নিয়ে যান প্রবালকে। কিছু সময় তাঁকে আটকেও রাখা হয় নিরাপত্তা আধিকারিকের অফিসে। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    যদিও সুপ্রিম কোর্ট প্রবালের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপই করেনি। তবে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়। বিচারপতি বিশ্বনাথন বলেন, ‘আমরা ওঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করছি না। মামলার নথিপত্র খতিয়ে দেখে নিম্ন আদালতের রায়ে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনও জোরালো ভিত্তি আমরা খুঁজে পাইনি। তাই মামলাটি খারিজ করা হল।’ বিচারপতিদের সংযোজন, ‘উনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত। ওঁর এই আচরণ আসলে দীর্ঘদিনের হতাশার বহিঃপ্রকাশ। ওঁর প্রতি আমাদের কেবল সহানুভূতিই রয়েছে।’

    লখনউয়ের বিশেষ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রবালের অভিযোগকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরিবর্তে তা যেন ব্যক্তিগত অভিযোগ হিসেবে গণ্য করতে বলেছিল নিম্ন আদালত। এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই এলাহাবাদ হাইকোর্টে যান প্রবাল। উচ্চ আদালতও তাঁর মামলাটি খারিজ করে দেয়। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)