• ‘সরকারি নির্দেশ আছে,’ ডিম ছোড়া নিয়ে মন্তব্য ভাইরাল হতেই ভুল স্বীকার বিজেপি নেতার
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর-২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মানস দাসের দিকে ডিম ছুড়েই ক্ষান্ত হননি বিজেপি নেতা। উল্টে বুক বাজিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলেন, সরকারি অর্ডারেই ডিম ছুড়েছেন তিনি। ঘটনার ভিডিয়ো সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। অবশেষে শুক্রবার ডিম ছোড়ার জন্য ক্ষমা চাইলেন বিজেপি নেতা সুব্রত জানা। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই কাজ করে ফেলেছি। ক্ষমাপ্রার্থী।’

    বৃহস্পতিবার বালিসাই ভূমি দপ্তরে গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মানস দাস। সেই সময়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত। তিনি রামনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। অভিযোগ, মানসকে দেখেই ডিম ছুড়তে শুরু করেন সুব্রত। সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেখানে দেখা যাচ্ছে, সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে দাঁড়িয়ে আছেন রামনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মানস দাস। আর তাঁকে ডিম ছুড়ে মারছেন সুব্রত।

    মানসের মুখ-মাথায় ডিমের কুসুম মাখামাখি। আকস্মিক আক্রমণে হতভম্ভ হয়ে গিয়েছেন তিনি। বিস্মিত সুরে একবার বলে উঠলেন, ‘ডিম ছুড়ছেন কেন?’ তখন সুব্রতকে বলতে শোনা যায়, ‘সরকার ডিম থেরাপির নির্দেশ দিয়েছে।’ এমন কথা শুনে অবাক হয়ে সুব্রতর দিকে তাকিয়ে থাকেন মানস।

    প্রায় ৭৬ বছর বয়সি মানস দাস একাধিকবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এহেন হেনস্থা দেখে বিভিন্ন মহলে আলোচনা, সমালোচনা এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, জনসমক্ষে একজন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে অপমান করার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলের মতে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দোষীদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

    ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বিজেপির কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সোমনাথ রায় বলেন, ‘কাউকে ডিম মারার কোনও সরকারি অর্ডার নেই। দলেরও কোনও নির্দেশ নেই। দল এমন ঘটনা সমর্থন করে না।’ আক্রান্ত মানস বলেন, ‘কেন বিরোধী দলনেতা এমন হামলা করলেন বুঝতে পারছি না। উনি দু’জন সঙ্গীকে নিয়ে ডিম ছুড়েছেন। মোবাইল ফোনে ভিডিয়ো তুলে ভাইরালও করেছেন।’ আর সুব্রতর সাফাই, ‘মানস দাস আগাগোড়া দুর্নীতিগ্রস্ত লোক। এর আগে ভূমি কর্মাধ্যক্ষ থাকার সময়ে সরকারি খাস জমি বিক্রি, জীবিত ব্যক্তিকে মৃত সাজিয়ে তাঁর জমি বিক্রি থেকে অবৈধ নির্মাণ––নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তারই প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

    তবে এ দিন পূর্ব মেদিনীপুরের বিজেপি সভাপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লেখেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এমনটা করেছি। এর সঙ্গে দলের বা সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই।’ পাশাপাশি ঘটনার জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেছেন বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসন এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি।

  • Link to this news (এই সময়)