• যথারীতি ব্যর্থ হলাম, তবে বিশাল দুঃখ আছে, তেমনটা নয়: অমিত সাহা
    এই সময় | ১০ জুলাই ২০২৬
  • 'নধরের ভেলা'র অন্যতম নায়ক। তবে কোনও দিনই হিরো হতে চাননি। চেয়েছিলেন অভিনয়ে বাঁচতে। শেষ পর্যন্ত সেটাই করেছেন। জীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে বিশেষ ভাবেন না। তবে কথা বলেন মন খুলে।

    এই সময় অনলাইন: ‘নধরের ভেলা’-কি আলাদা পরিচিতি দিল?

    অমিত সাহা: পরিচিতি বাড়ল কি না, সত্যিই সেটা ভেবে দেথিনি। হ্যাঁ, এটা ঠিক ‘নধরের ভেলা’ দেখে নানা বয়সের দর্শকে এসে কথা বলতে চাইছেন। বড়রা জড়িয়ে ধরছেন। যেখানে যেখানে আমরা ছবিটা নিয়ে গিয়েছি, দর্শকের থেকে দারুণ ফিডব্যাক পেয়েছি। এটুকুই প্রাপ্তি। বাকি কোনও কিছু নিয়েই সত্যি আমি ভাবি না ।

    এই সময় অনলাইন: ‘নধরের ভেলা’র পরে কাজের চাপ কি বাড়ল?

    অমিত: বিশেষ নয়। কিছু কাজ চলছে। কয়েকটি প্রজেক্টের শুটিং শেষ। সেগুলো রে়ডি হচ্ছে। সেই সঙ্গে আরও কিছু কাজের কথাবার্তাও চলছে। সব মিলিয়ে এই আর কী। এতেই আমি খুশি। খুব বেশি কিছু আমিও চাই না।

    এই সময় অনলাইন: চরিত্র বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনি কতটা সিলেক্টিভ? বেছে কাজ করেন?

    অমিত: বেছে কাজ করি না, তা নয়। তবে আমি অতটাও প্রিভিলেজড নই যে, সব সময় বেছে কাজ করব। রোজগারের কথাটা মাথায় রাখতে হয়। যখন রোজগার একেবারেই থাকে না, তখন বেছে কাজ করার প্রশ্নই ওঠে না। আবার যখন পকেট ভারী, তখন ‘হ্যাঁ’ বলার আগে যাচাই করে নিই। তা ছাড়া যেহেতু আমি থিয়েটার করি, বড় সময় ওখানে খরচ করতে হয়। ফলে কাজ এলেও, অনেক সময় ছেড়ে দিতে হয়। এটা নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া।

    এই সময় অনলাইন: থিয়েটারের জন্য মোটা পারিশ্রমিকের সিনেমার কাজ ছাড়ার আগে কোনও ভাবনা আসে না?

    অমিত: আমি তো একেবারে প্রথমে শুধু থিয়েটারটাই করতাম। কখনও ভাবিনি সিনেমায় কাজ করব। আমার প্ল্যান ছিল, চাকরি করব আর সেই সঙ্গে থিয়েটার চর্চা চালিয়ে যাব। তবে যে ভাবে ভাবব, জীবন তো সব সময় তেমন চলে না। ভাগ্যে ছিল, তাই সিনেমায় কিছু কাজ পেয়েছি। থিয়েটার আর সিনেমার মাধ্যম আলাদা, প্রসেস আলাদা। অস্বীকার করে লাভ নেই, সিনেমায় টাকাও বেশি। সিনেমার কাজগুলোকে চাকরি হিসাবেই দেখি। আর তাই থিয়েটারটা করতে পারি মন দিয়ে।

    এই সময় অনলাইন: আপনি তো শুনেছি মাঝে বেশ কিছু বছর চাকরিও করেছেন।

    অমিত: হ্যাঁ, দীর্ঘদিন বিভিন্ন সংস্থায় চাকরি করেছি। সবচেয়ে বেশিদিন করেছি আকাশ বাংলায়, প্রোডাকশন ডিপার্টমেন্টে। সেই সময় চাকরি করেছি আর চুটিয়ে নাটক। কিন্তু চাকরি করলে সন্ধেগুলো ফাঁকা থাকে না। অফিসকে দিয়ে দিতে হয়। এ দিকে, নাটকের শো আবার সন্ধেতেই থাকে। ফলে দু’টো সামলাতে সমস্যাও হচ্ছিল। তাই চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম।

    এই সময় অনলাইন: ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামা-য় পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ হলো না কেন?

    অমিত: নিজের দোষে। প্রথমবার যখম পরীক্ষা দিয়েছিলাম, কোনও প্রস্তুতি নিই নি। প্রস্তুতি ছাড়া NSD-তে পরীক্ষা দেওয়া বোকামি। কিন্তু আমি সেটা করেছিলাম। তাই স্বাভাবিক ভাবেই সুযোগ পাইনি। ৩০ বছর পর্যন্ত পরীক্ষা দেওয়া যায়। ভেবেছিলাম, আরও একবার ট্রাই করে দেখব। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার আগে বিয়ে করে নিয়েছিলাম। কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই আবার পরীক্ষায় বসলাম। যথারীতি ব্যর্থ হলাম। তবে এনএসডি-তে চান্স পাইনি বলে যে বিশাল দুঃখ আছে, তেমনটা নয়। আক্ষেপ নেই। আক্ষেপ করার জায়গাও নেই। কারণ আমি ঠিক করে তৈরি হলে নিশ্চয়ই চান্স পেতাম।

    এই সময় অনলাইন: প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যর সঙ্গে আলাপ কী ভাবে?

    অমিত: প্রদীপ্তর সঙ্গে আমার আলাপ রূপকলা কেন্দ্র থেকে। ওরা পড়তে আসত ওখানে। আমিও যেতাম বিভিন্ন কাজে। রূপকলা আমায় কিছু ভালো বন্ধু দিয়েছে। প্রদীপ্ত এবং বাকিরা যখনই কিছু কাজ করে, আমার একবার হলেও ডাকে। প্রদীপ্ত, আমি ওখান থেকেই শুরু করেছি। প্রদীপ্তর ‘বাকিটা ব্যক্তিগত’-তেও আমি ছিলাম। ছবিটা নিয়ে চর্চা হয়েছে বলে সকলে ভাবেন ওটাই আমার প্রথম ছবি। তার আগেও আমি কাজ করেছি। প্রদ্যুৎ ভট্টাচার্যের ‘বাজিকর’ ছবিতে লিড কমেডিয়ানের চরিত্রে অভিনয় দিয়েই সেই অর্থে পর্দার কাজে হাতেখড়ি।

    এই সময় অনলাইন: কাঁকুড়গাছির মধ্যবিত্ত বাড়িতে বড় হওয়া, অভিনয়ের বদলে চাকরি জোটানোর চাপ আসেনি?

    অমিত: না, আমি যে পাড়ায় মানুষ হয়েছি, সেখানে একেবারে সাধারণের বাস। আমার বাবা জুটমিলের শ্রমিক ছিলেন। মাঝেমাঝেই জুটমিল বন্ধ হয়ে যেত। বাবা তাই পাশাপাশি একটা ব্যবসা খুললেন। দোকানটা বেশ ভালোই চলত। ফলে আমাকে চাকরি করতেই হবে, তেমন জোরাজুরি বাড়ি থেকে কখনওই ছিল না। তার পরে তো একটা চাকরি করতামও। চাকরি ছাড়ার পরে জমানো পুঁজি দিয়েই ২ বছর কিছুটা চালিয়েছি। ধার-দেনা করেছি। এ ভাবেই আমার জীবন কেটেছে এবং এখনও কাটছে।

    এই সময় অনলাইন: কাজের ক্ষেত্রে কি এখনও আপনি স্ট্রাগলার?

    অমিত: জীবনে স্ট্রাগল আছে। কারণ পরিস্থিতি সব সময় এক রকম থাকে না। তবে কাজ নিয়ে আমি এত ভাবিনি। বিশেষ যে চেষ্টা করি, তেমনও নয়। জানি যদি কাজ আসার থাকে, এমনিই আসবে। অযথা জোর করে কিছু পাওয়া যায় না।

    এই সময় অনলাইন: প্রথম সারির প্রোডাকশন হাউজ়ের ছবিতে সে ভাবে আপনাকে দেখা যায় না কেন?

    অমিত: অনেক আগে এসভিএফ, সুরিন্দর-এর কিছু কাজ করেছিলাম। তখন যে পারিশ্রমিকে কাজ করেছি, এখন আর সেই টাকায় কাজ করা সম্ভব নয়। কিন্তু ওরাও টাকা বাড়াতে রাজি নয়। তাই পরে যে কয়েকটি কাজের জন্য ডেকেছিল, সেগুলো আমি করতে পারিনি। সব কিছুরই তো দাম বেড়েছে। ৫ বছর আগের পারিশ্রমিকে এখন আর কাজ করা যায় না।

    এই সময় অনলাইন: ‘লুটেরা’-র পরে মুম্বইয়ের ছবিতে দেখা যায়নি, বলিউডে ট্রাই করার কথা ভেবেছেন?

    অমিত: ‘লুটেরা’য় খুবই ছোট একটা চরিত্র করেছিলাম। তবে ওটাই আমার প্রথম বলিউডের ছবি। মুম্বইয়ে গিয়ে স্ট্রাগল করার মতো আমার আর এনার্জি নেই। তা ছাড়া আমি হিন্দিটাও খুব খারাপ বলি। কেউ যদি আমায় নিয়ে গিয়ে ওয়ার্কশপ করিয়ে কোনও কাজ দেয়, তা হলে আমি রাজি আছি।
  • Link to this news (এই সময়)