আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার দু’মাস পেরোতেই কমানো হল বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা। কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রদবদল করা হয়েছে। সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির পরিবর্তে 'এক্স' ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রকের তরফে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা কমানোর বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন অধীর। তিনি বলেন, “আমি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কাছে নিজের নিরাপত্তার জন্য কোনও আবেদন জানাইনি। আগে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, সেখান থেকে এখন কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও আমার সঙ্গে ৪-৫ জন নিরাপত্তা রক্ষী থাকছেন।” তিনি আরও বলেন, “আগে কী ক্যাটাগরির বাহিনী ছিল এবং এখন কী ক্যাটাগরির নিরাপত্তা রয়েছে, সে বিষয়ে আমার সঠিক জানা নেই।"
রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকার বদলের পর বিরোধী নেতাদের নিরাপত্তা হ্রাসের ঘটনা নতুন নয়। তবে অধীরবাবুর মতো রাজ্যের প্রথম সারির বিরোধী নেতার নিরাপত্তা কমানোয় জল্পনা শুরু হয়েছে। রেল মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী থাকার সময় তাঁকে আরপিএফ জওয়ানরা সুরক্ষা দিতেন। এছাড়া সাংসদ থাকাকালীন এবং লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর অধীরকে রাজ্যের পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা দিত। তবে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর অধীরের রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু বিজেপি সরকার প্রাক্তন লোকসভা সাংসদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেনি। যদিও এই কারণে একাধিকবার তৃণমূল নেতৃত্ব এবং হুমায়ুন কবীর, অধীরের সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ট যোগাযোগ থাকার অভিযোগ তুলেছেন।
যদিও হটাৎ কী কারণে অধীর চৌধুরীর নিরাপত্তার বহর কমানো হয়েছে এই বিষয়ে জেলার বিজেপি নেতৃত্ব মুখ খুলতে রাজি হয়নি। তাঁরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে আমরা সকলে মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফর নিয়ে ব্যস্ত রয়েছি। প্রাক্তন সাংসদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিজেপি দল দেখে না। কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রকের কর্তারা বলতে পারবেন কেন এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।