আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূলের টাকায় কেনা বিমান ও কপ্টার, তৃণমূলকেই ভাড়া দিয়েছিল কেয়ারওয়েল এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড নামে এক কোম্পানি! ইডির তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাক্তন শাসক দলের কালো টাকা সাদা করার ইঙ্গিত কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে। যা নিয়ে বৃহস্পতিবার বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তবে সেখানেই শেষ নয়। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। তাতেই পাল্টা একাধিক তথ্য সামনে এনেছেন কুণাল।
কুণাল ঘোষের খোঁজ খবর:এই ইস্যুতে শুক্রবার কুণাল ঘোষ তাঁর খোঁজ খবরের বিষয়টি সোশাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। লেখেন, 'তৃণমূল কংগ্রেস এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশেষ বিমান সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল না। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করায় একটু খোঁজ নিলাম। তাতে যা পেলাম: ১) জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য একটি সংস্থার কাছ থেকে তৃণমূল আকাশযাত্রার চুক্তি করে। যাতে দরকারের সময় বিমান পাওয়া যায়। ২) তৃণমূলের ব্যবহারের সময় ছাড়া অন্য সময় ওই সংস্থা দেশের বিভিন্ন দলের নেতা, মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, শিল্পপতিদের ব্যবসায়িকভাবেই ভাড়া দিয়েছে। ব্যবহারকারীদের নামের তালিকা দীর্ঘ ও শীর্ষস্থানীয়। এমনকি এবার এই রাজ্যে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানেও ভিনরাজ্যের এক বিশেষ অতিথি এসেছিলেন এদের বিমানে। ৩) ওই সংস্থাকে পেমেন্ট করে তৃণমূল। ওই সংস্থায় তৃণমূলের কোনো পদাধিকারীর শেয়ার নেই। বা ওই সংস্থা থেকে কোনো পেমেন্ট তৃণমূলের কোনো পদাধিকারীর কাছে যায়নি। (আপাতত এটুকু পেয়েছি)।'
ইডি-র তদন্ত:ইডি বেআইনি লেনদেন প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর নির্দিষ্ট ধারায় তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০.৪২ কোটি টাকা বুধবারই ফ্রিজ করেছিল। তার আগে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দল পাঁচ জায়গায় তল্লাশি চালায়। তার মধ্যে ছিল রাধাবাজার স্ট্রিটের কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজের রেজিস্টার্ড অফিসও।
তদন্তে উঠে আসে 'কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জ'-এর কথাও। এই দ্বীপ কর ফাঁকির স্বর্গরাজ্য বলে পরিচিত। অভিযোগ, অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করতে নাকি ২০২৩ সালে 'কেইম্যান দ্বীপপুঞ্জ'-এর একটি শেল কোম্পানি থেকে ১৭ লক্ষ মার্কিন ডলার অসুরক্ষিত ঋণ দেখিয়েছিল রাধাবাজারের কেয়ারওয়েল গ্রুপ অফ কোম্পানিজ।
ইডি সূত্রে আরও খবর যে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত- তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা গিয়েছিল কেয়ারওয়েল এভিয়েশনের অ্যাকাউন্টে। কেয়ারওয়েল সেই টাকার মধ্যে ৮২.৯৬ কোটি তাদেরই এক সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে ঘুরিয়ে মোট ১১২ কোটি টাকা খরচ করে একটি এমব্রেয়ার ৬০০ বিমান এবং একটি অগাস্টা ১০৯ হেলিকপ্টার কেনে। ইডির অভিযোগ, তৃণমূলের টাকা দিয়েই ওই আকাশ বাহনগুলো কেনা হয়েছিল। এবং পহরে সেগুলোকেই ফের চড়া ভাড়ায় তৃণমূলকেই ভাড়া দেওয়া হয়!