সব কাজ ফেলে ঘরে ফেরার ধুম, ১০ দিন 'এই' গ্রাম ছেড়ে কেউ কোথাও যান না! কার টানে ছুটে আসা?
News18 বাংলা | ১১ জুলাই ২০২৬
মুর্শিদাবাদ জেলার প্রত্যন্ত ব্লক খড়গ্রাম। আর এই খড়গ্রামের গয়েশপুরে সবচেয়ে বড় উৎসব রথযাত্রা। দুশো বছরের প্রাচীন এই রথযাত্রাকে ঘিরে উৎসব এবং উন্মাদনায় মেতে ওঠে গ্রামের বাসিন্দারা। ইতিহাসবিদদের মতে, ২০০ বছর আগে এই গ্রামে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় রথ। বঙ্গের এই গ্রামের রথযাত্রা উৎসবে সামিল হল গোটা ব্লকের মানুষজন। যদিও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী রথে অধিষ্ঠিত থাকেন গোপাল।
আর এই দৃশ্য দেখতে ভিড় করেন দূর দূরান্ত থেকে আসা বহু মানুষ। এবছর রথযাত্রার উৎসবেও এলাকার বাসিন্দারা সামিল হবেন। পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের পাশাপাশি এ রাজ্যের বহু জায়গায় রথযাত্রার উৎসবে মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। জেলার বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি খড়গ্রাম ব্লকে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয় সাড়ম্বরে। সকল ধর্মের মানুষেরা এই রথ টানতে উপস্থিত হবেন।
রথযাত্রা উপলক্ষে আগামী দশ দিন ধরে চলবে মেলা ও উৎসব। চলে বাউল গান থেকে কীর্তন, এমনকী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তবে এই গ্রামে দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর থেকেও বড় উৎসব হল এই রথযাত্রা উৎসব। আগে মাটির মন্দির ও কাঠের রথ ছিল। যদিও স্থায়ী মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে কয়েক বছর আগেই। এমনকী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দার উদ্যোগে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে কাঠের রথ। গ্রামের বহু বাসিন্দা বাইরে থাকলেও রথের সময় এসে উপস্থিত হন।
উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে জোরকদমে চলছে প্যান্ডেলের কাজ। গ্রামের অন্যতম উৎসব এই রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে একটি মন্দিরও কয়েক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি গত দু’দশক আগে পুনর্নির্মাণ করা হয় কাঠের রথটিও। এবছর নতুন করে রথকে সাজানো হয়েছে। রথ কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো নয়, রথযাত্রাকে ঘিরেই ছোট থেকে বড় সবাই মেতে ওঠেন উৎসবে। যা দেখতে ভিড় জমান বহু সাধারণ মানুষ।