• বিরাট খবর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু,আয়ুষ্মান ভারত থেকে বাদ পড়লেও মিলবে ৫ লাখের স্বাস্থ্যবিমা
    আজ তক | ১১ জুলাই ২০২৬
  • Suvendu Adhikari Health Scheme Announcement: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে আমজনতার জন্য এক মস্ত বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের কোনো নাগরিকই আর নিখরচায় চিকিৎসা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন না। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের এক জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে সমস্ত নাগরিক নির্দিষ্ট কিছু সরকারি নিয়মের গেরোয় পড়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন না তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে চালু করেছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা।

    এই নতুন প্রকল্পের অধীনে উপভোক্তারা বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস অর্থাৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবেন যা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই নয় বরং গোটা দেশের যেকোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতালে সমানভাবে কার্যকর হবে। রাজ্য সরকারের এই মানবিক ও দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা বিভ্রাট ও বিপুল খরচের হাত থেকে রেহাই পাবেন কোটি কোটি সাধারণ মানুষ।

    কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী মূলত নির্দিষ্ট দিনমজুর, গৃহহীন, কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী, ভিখারি, রিকশাচালক এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া দরিদ্র পরিবারের মানুষেরা বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পান। এর পাশাপাশি আয়-নির্বিশেষে ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী দেশের সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এবং অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ও বিশেষ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত ডিজিটাল রেশন কার্ডধারীরাও এই প্রকল্পের আওতায় ৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের ঘরে ঘরে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ফর্ম তোলার কাজ জোরকদমে চললেও নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক মাপকাঠির কারণে কারা শেষ পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন আর কারা বাদ পড়বেন তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এক তীব্র সংশয় ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। জনগণের এই দুশ্চিন্তা দূর করতেই আসরে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের কঠিন নিয়মের বেড়াজালে আটকে যারা এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবেন তাঁদেরকে সুরক্ষাকবচ দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিজস্ব মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। এই সমপরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা চালু হওয়ায় রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা একশো শতাংশ নিশ্চিত করা সম্ভব হলো।

    নতুন এই ঘোষণার ফলে একদিকে যেমন দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর থেকে চিকিৎসার খরচের মস্ত বড় বোঝা নেমে গেল, অন্যদিকে তেমনই দেশের যে কোনও প্রান্তে আপদকালীন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যে উন্নত মানের চিকিৎসা পাওয়ার পথও সুগম হলো। রেজিনগরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই মাস্টারস্ট্রোক ঘোষণাটি সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিসহ আপামোর জনসাধারণের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনা ও খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে।

     
  • Link to this news (আজ তক)