রাজ্যে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮টিতে জিতে সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে বিজেপি। এবার লক্ষ্য, এই আসন সংখ্যা আরও বাড়ানোর। সেই লক্ষ্য নিয়েই বকলমে উপনির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের জনসভা থেকে তাঁর আবেদন, ‘‘উন্নয়ন চাইলে পদ্মফুল ফোটান, দুহাত ভরে দেব।” এ প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর – দুই আসনের কথাই উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তবে অবশ্য বিশেষ জোর দিলেন হুমায়ুন কবীরের ছেড়ে আসা আসন রেজিনগর। এই কেন্দ্রে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমোকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী। বোঝালেন, সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি নয়, জনতা চায় উন্নয়ন। যা একমাত্র বিজেপি সরকারই দিতে পারে।
শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সন্ধ্যায় রেজিনগরে একটি জনসভা করেন তিনি। সেই মঞ্চে ভাষণ দিতে গিয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল উপনির্বাচন প্রসঙ্গ। বললেন, ‘‘আমরা ২০৮ আসনে জিতে আছি। নন্দীগ্রাম তো জিতবই। ওটা আমার উপর ছেড়ে দিন, আমি দেখে নেব। কত ভোটে যে জিতব…সীমাহীন ভোট। তাতে ২০৯টা আসন হবে। ২১০ আসন হবে কি না, তা নির্ভর করছে রেজিনগরের উপর। কী, জেতাবেন তো? বিজেপিকে জেতালে একটা নয়, দুটো ব্রিজ দেব রেজিনগরে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাব। এখানে কাজের ব্যবস্থা করে দেব। তাঁরা ঘরে স্ত্রী, কন্যা, পুত্র সকলের সঙ্গে থাকতে পারবেন। শুধু এখানে পদ্ম ফোটান।”
এরপর হুমায়ুন কবীরের নাম না করে তিনি বলেন, ‘‘এখানে যিনি জনপ্রতিনিধি হয়েছিলেন, দুটো আসনে জিতে রেজিনগরটা ছেড়েছেন। কাকে চান আপনারা? যিনি হিন্দু-মুসলিম করবেন, মন্দির-মসজিদ করবেন? নাকি উন্নয়ন চান? পেটে ভাত, হাতে কাজ। বিজেপির আমলে আপনারা, হিন্দু, মুসলমান সবাই ভালো আছেন তো? ওরা তো বলেছিল, বিজেপি মুসলিমদের তাড়িয়ে ছাড়বে। কী দেখছেন এখন? আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আপনারা বিজেপিকে জেতান। দু’হাত ভরে আপনারা যা চাইবেন, তাই দেব।” উল্লেখ্য, ছাব্বিশের ভোটে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম আসন থেকে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগর ও নওদা থেকে জিতেছেন হুমায়ুন কবীর। তাই দুজনেই একটি করে আসন ছেড়েছেন। সেখানে উপনির্বাচন হবে।