• ৮৫ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে খুন, পুত্র ও নাতির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, বর্ধমান আদালতের রায়
    News18 বাংলা | ১১ জুলাই ২০২৬
  • যে বাবা সারাজীবন সন্তানকে আগলে রাখেন, বার্ধক্যে এসে সেই বাবাই হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের কাছে ‘বোঝা’। আর সেই কারণেই ৮৫ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগে পুত্র ও নাতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিল বর্ধমান আদালত। পাশাপাশি, প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বৃদ্ধের নাম শশাঙ্ক শেখর দত্ত (৮৫)। তিনি বর্ধমানের সরাইটিকর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। স্ত্রী আগেই মারা গিয়েছিলেন। বার্ধক্যের কারণে তিনি সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন ছেলে ফাল্গুনি দত্ত এবং নাতি অনিরুদ্ধ দত্ত-র উপর।

    তদন্তে উঠে আসে, বৃদ্ধের দেখাশোনা করতে অনীহা থেকেই তাঁকে ‘বোঝা’ বলে মনে করতে শুরু করেন ছেলে ও নাতি। অভিযোগ, সেই মানসিকতা থেকেই পরিকল্পনা করে বৃদ্ধকে দেওয়ালে মাথা ঠুকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।

    ঘটনাটি ঘটে ২০২২ সালের ২৯ জুন রাতে। স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে পৌঁছন। অভিযোগ, বারবার ডাকাডাকি করলেও দরজা খোলেননি অভিযুক্তরা। উল্টে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিবেশীদের উদ্দেশে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।

    এরপর স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে রয়েছেন বৃদ্ধ শশাঙ্ক শেখর দত্ত। তাঁর পাশেই বসে ছিলেন ছেলে ও নাতি।

    খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    সরকারি আইনজীবী শিবরাম ঘোষাল জানান, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্যপ্রমাণ ও নথিপত্রের ভিত্তিতে আদালত দুই অভিযুক্তকেই দোষী সাব্যস্ত করে। বিচারক পুত্র ও নাতি—উভয়েরই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)