• 'মুর্শিদাবাদ ও রেজিনগর পাল্টে গিয়েছে', একাধিক উন্নয়নের বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
    News18 বাংলা | ১১ জুলাই ২০২৬
  • বিধানসভার উপনির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থেকে রাজনৈতিক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরে এসে রেজিনগরের জনসভা থেকে তিনি একদিকে যেমন একাধিক উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি দেন, অন্যদিকে বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।

    সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী নই, আমি কাপুরুষও নই। যা খুশি শুনে যাব, এগুলো আমার আমলে হবে না। সংবিধান মেনে সকলের অধিকার নিশ্চিত করা হবে।”

    রেজিনগরের সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, মুর্শিদাবাদ ও রেজিনগরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন এসেছে। তাঁর কথায়, “চারিদিকে এখন পদ্ম ফুটেছে। রেজিনগর বদলে গিয়েছে।” দিনভর জেলা সফরে প্রথমে বহরমপুরে সাংগঠনিক বৈঠক এবং পরে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর রেজিনগরের সভা থেকে কার্যত উপনির্বাচনের প্রচারের সূচনা করেন তিনি।

    সরকার গঠনের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে বিএসএফের হাতে প্রয়োজনীয় জমি তুলে দেওয়া হয়েছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন আইন কার্যকর করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে উপভোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই ১২ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে। আগামী মার্চের মধ্যে এক লক্ষ কর্মসংস্থানেরও আশ্বাস দেন তিনি।

    রেজিনগরের উন্নয়নের জন্য একাধিক ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এলাকায় পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য একটি হিমঘর তৈরি করা হবে। পাশাপাশি মুর্শিদাবাদে নতুন জেলা, একটি মহিলা কলেজ এবং আরও কয়েকটি নতুন পৌরসভা গঠনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। রেজিনগরের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি রেজিনগরে বিজেপিকে জেতান, তাহলে দু’টি নতুন সেতু উপহার দেওয়া হবে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনা হবে। উন্নয়নের জন্য যা যা দরকার, সরকার তা করবে।”

    সভা থেকে আগের সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। সীমান্তে মাদক পাচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সিএএ-কে ঘিরে অতীতের অশান্তি এবং ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়েও তিনি সরব হন।

    আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর-এর নাম উল্লেখ না করেই তাঁকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সংবিধান মেনে উন্নয়নের কথা বলুন। লক্ষ লক্ষ মানুষকে জেলে ভরে রাখার কথা সংবিধান সমর্থন করে না।”

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী আগস্ট মাসে তিনি শক্তিপুরে সভা করবেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে সেখানে সভা করতে প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল এবং হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে সভা করতে হয়েছিল।
  • Link to this news (News18 বাংলা)