• ‘কঠোর পদক্ষেপ করা হবে’, সোম থেকেই রাজ্যে চালু গুন্ডাদমন আইন, কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী?
    এই সময় | ১১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: বিধানসভায় ইতিমধ্যেই পাশ হয়েছে রাজ্য সরকারের গুন্ডাদমন বিল। ১০ দিনের মাথায় সেই বিলে রাজ্যপালের স্বাক্ষরও সম্পূর্ণ হয়ে গেল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার মুর্শিদাবাদে গিয়ে জানিয়ে দিলেন, আগামী সোমবার থেকেই কার্যকর হবে গুন্ডাদমন আইন। তিনি জানান, ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ় বিল, ২০২৬’–এ রাজ্যপাল সম্মতি দেওয়ায় সোমবার থেকে এটি সরকারি ভাবে আইন হিসেবে বলবৎ হচ্ছে।

    এই নতুন আইনের অধীনে রাজ্যে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা, উস্কানি বা দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা হলে তা প্রতিরোধ করতে পুলিশ ‘প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট’ বা অপরাধ ঘটার আগেই সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করার বিশেষ এক্তিয়ার পাবে। প্রয়োজনে আদালতে পেশ না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের আটকও রাখতে পারবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, জনজীবন বিপর্যস্ত করা বা গুন্ডামির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে প্রশাসন এ বার থেকে এই বিশেষ আইনের কঠোর ধারাগুলি প্রয়োগ করতে পারবে। এই আইনে অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। এই বিলটির পাশাপাশি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার, ১৯৭২’ আইনের সংশোধনী বিলও পাশ হয়েছিল। সেটিতেও রাজ্যপাল আরএন রবি অনুমোদন দিয়েছেন বলে খবর।

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে আইনের শাসন বজায় রাখতে প্রশাসন সম্পূর্ণ আইনসম্মত ভাবে পদক্ষেপ করবে। কোনও রকম সস্তা ভাষণবাজি বা উস্কানিতে কান না দিয়ে এই নতুন আইনের সাহায্যে দুষ্কৃতীদের দমন করা হবে। সংশোধিত আইনের মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ বা ধ্বংসের ঘটনায় অভিযুক্তদের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায়েরও সংস্থান রয়েছে এই আইনে। অর্থাৎ, জনসম্পত্তি নষ্ট করলে তার আর্থিক দায়ও বহন করতে হবে অভিযুক্তদের।

    শুক্রবার বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘রেল জ্বালানো, বাস পোড়ানো, পুলিশকে মারধর— এ সব এখন অতীত। নারী সুরক্ষা, মানবপাচার রোধ এবং আইন–শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিও হবে। সামশেরগঞ্জ বা ধুলিয়ানে অতীতে যা হয়েছে, ভবিষ্যতে তার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।’

    নতুন বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সংজ্ঞাও অনেক বিস্তৃত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বা নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে— এমন প্রায় সব ধরনের সংগঠিত অপরাধই এর আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন–শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, বৈধ ব্যবসা বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনি ভাবে জমি বা অন্য সম্পত্তি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা, অবৈধ খনি, বালি বা পাথর উত্তোলন, প্রাকৃতিক সম্পদের লুট এবং বন ও বন্যপ্রাণের ক্ষতি। ফলে শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট চক্র, বেআইনি খনি ও বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙচুর কিংবা ব্যবসায় বাধা— সংগঠিত অপরাধের প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রকেই নতুন আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার রাস্তা তৈরি হয়ে গেল নতুন এই আইনের দৌলতে।

    রাজ্যে সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ আইন আনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি ঘোষণা করেছিলেন, চলতি অধিবেশনেই সেই বিল পেশ করা হবে। কলকাতা গেজেটের বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত বিলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইন–শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সংগঠিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপের উপরে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। নবান্ন সূত্রে খবর, দু’-এক দিনের মধ্যেই এই আইনের গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে।

    সরকারের দাবি, অতীতে প্রতিবাদের আড়ালে বহু ক্ষেত্রে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ২০১৯–এ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) পাশের পরে মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়া-সহ একাধিক জেলায় অশান্তি ছড়িয়েছিল। সেই সময়ে ট্রেন, বাস-সহ বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তিতে আগুন লাগানো এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই সমস্ত ঘটনার তদন্তও শুরু হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)