• ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না, ভিআইপি রোডে দখলদারি নিয়ে ডিএম–কে তলব কোর্টের
    এই সময় | ১১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: ভিআইপি রোডের দু’ধারে দখলদারি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের চতুর্থ নির্দেশের পরেও যথাযথ রিপোর্ট দিতে পারেনি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন— এমনই পর্যবেক্ষণ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চের। শুক্রবার জমা পড়া রিপোর্ট দেখে বেঞ্চের নির্দেশ, ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় আগামী শুনানিতে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসককে ব্যক্তিগত ভাবে আদালতে হাজির হয়ে জবাব দিতে হবে। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে উল্টোডাঙা পর্যন্ত ভিআইপি রোডের দু’পাশে বেআইনি নির্মাণ ও জবরদখলের বিরুদ্ধে দায়ের জনস্বার্থ মামলায় জেলাশাসককে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে রিপোর্ট দিতে বলেছিল হাইকোর্ট। কারণ, আগেই জেলা প্রশাসন জবরদখলের কথা মেনে নিয়ে রিপোর্ট দিয়েছিল। কিন্তু এ দিন যে রিপোর্ট জমা পড়ে, তা ‘দায়সারা’ বলে মন্তব্য করে আদালত। বিরক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আইনজীবীকে বলেন, ‘জেলাশাসককে আসতে বলুন। উনি কি নিজেকে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের চেয়েও বড় মনে করেছেন?’ রিপোর্ট দেখিয়ে বেঞ্চের প্রশ্ন, ‘এটা কি গ্রুপ–ডি স্টাফ ফাইল করেছেন?’

    মামলাকারীর আইনজীবী রবীন্দ্রনারায়ণ দত্ত জানান, এই ঘটনায় কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, এই বেঞ্চ এর আগে তার রিপোর্ট তিন বার চেয়েছিল। তাও স্পষ্ট আকারে রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। এর আগে এই আদালত সতর্কবার্তাও দিয়েছিল, এ বার রিপোর্ট ঠিক ভাবে না দিলে সশরীর হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হবে। তারপরেও সেই নির্দেশ মানা হয়নি। ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, ‘আমাদের মনে হয়, ইচ্ছে করেই নির্দেশ অমান্য করছেন। তাই সশরীর আসতে হবে হলফনামা ও রিপোর্ট নিয়ে।’ এক সময়ে বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘প্রধান বিচারপতিকে অসম্মান করছেন। আপনি এত ব্যস্ত?’ ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।’

    ভিআইপি রোডের ধারে বেআইনি জায়গা দখল করে পার্কিং প্লেস ও বিয়েবাড়ি নির্মাণের অভিযোগে মামলা হয় ২০২২–এ। নয়ানজুলি বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণ হয়েছে বলে মামলা করেন অর্ধেন্দু নাগ নামে এক ব্যক্তি। ২০২২–এই রিপোর্ট দিয়ে জেলাশাসক স্বীকার করে নেন জবরদখল হয়েছে। তৎকালীন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ সে সময়ে নির্দেশ দেয়, এরপরে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার রিপোর্ট দিতে হবে। ইতিমধ্যে একের পর এক জেলাশাসক বদল হয়েছেন। আদালতও একের পর এক নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু যথাযথ রিপোর্ট জমা পড়েনি।

  • Link to this news (এই সময়)