এই সময়: সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক বৃহস্পতিবার বঙ্গ–বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে যোগদান করেই রাজ্যসভার টিকিট পেয়েছেন। এই দলবদলুদের রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া নিয়ে শুক্রবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন উত্তরবঙ্গের ছোট–বড় একাধিক বিজেপি নেতা। ক’মাস আগে বিধানসভা নির্বাচনের সময়ে প্রকাশকে নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার কী মন্তব্য করেছিলেন, তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে খোঁচা দিয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবির। বিধানসভা ভোটের পরে প্রকাশকে নিয়ে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিগ্গা কী মন্তব্য করেছিলেন, তা–ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সব থেকে অস্বস্তিতে পড়েছেন বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সাংগঠনিক নেতৃত্ব ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিজেপি করা কোচবিহার দক্ষিণের প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে শুক্রবার বলেছেন, ‘বিজেপিতে ভালো, যোগ্য, শিক্ষিত, আদর্শবান লোক ছিলেন না? তৃণমূলের লোক নিতে হবে? অনেক কার্যকর্তা রয়েছেন, যাঁরা সাংসদ হতে পারতেন। দুপুরে বিজেপিতে যোগদান করে সন্ধ্যায় রাজ্যসভার টিকিট পাচ্ছেন! বিজেপির পুরোনো কর্মী যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের এটা দেখে দুঃখ হয়েছে।’ আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক পরিতোষ দাসের বক্তব্য, ‘ওঁর (প্রকাশ) দুর্নীতির বিষয়ে জানা ছিল। তবে ওঁর সাংগঠনিক দক্ষতা আছে কি না, আমার সেই জ্ঞান নেই। উনি আসায় দল লাভবান হবে কি না, বলতে পারব না। বৃহত্তর স্বার্থে হয়তো এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ প্রকাশ কেন বিজেপিতে যোগ দিলেন? তিনি এ দিন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ‘তৃণমূলের মধ্যে গোটা বাংলাতেই ক্ষোভ রয়েছে। তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে বাংলার মানুষ তো আওয়াজ তুলেছে।’ তবে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ কোনও মন্তব্য করেননি।
কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় সুকান্ত মজুমদারের জনসভার ভাষণের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময়’)। সেখানে প্রকাশের বিরুদ্ধে সুকান্তকে ‘টাকা তোলার’ অভিযোগ করতে শোনা গিয়েছে। বিধানসভার প্রেস কর্নারে কুণাল বলেন, ‘বিজেপিতে ভালো লোক কম পড়ছে। ভালো প্রার্থী নেই। তৃণমূলের লোককে টিকিট দিতে হয়েছে। তৃণমূল থেকে লোক ভাঙাতে হয়েছে। দু’দিন আগে নিজেরাই বললেন দরজা বন্ধ, আবার নিজেরাই পতাকা দিচ্ছেন।’ প্রকাশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মনোজ টিগ্গার একটি ভিডিয়োও (এরও সত্যতা ‘এই সময়’ যাচাই করেনি) প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও শুক্রবার মনোজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রকাশ নিজে আবার এ দিন তাঁর বিজেপিতে যোগদানের সপক্ষে যুক্তি হিসেবে তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্য চালু না করার অভিযোগও তুলেছেন। সুস্মিতাও তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি নিয়ে ফের সরব হয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘যে সব দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে, অবাক করার মতো। যদি দুর্নীতি না হয়ে থাকে তা হলে সুমিত রায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন কেন? যদি দুর্নীতি না থাকে, তা হলে ভয় কোথায়?’ তৃণমূলে যোগদান করার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের জমানায় যে এত দুর্নীতি হয়েছে তা জানা ছিল না বলেও সুস্মিতা দাবি করেছেন। যদিও কুণালের পাল্টা বক্তব্য, ‘মমতা যখন ক্ষমতায় ছিলেন তখন কেন দল ছাড়েননি? ব্যাক্তিগত অ্যাজেন্ডা নিয়ে যাচ্ছেন কেন ছুতো দিচ্ছেন?’ সুখেন্দু, সুস্মিতারা সোমবার রাজ্যসভা ভোটের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন।