এই সময়: কলকাতা হাইকোর্টের বৃহস্পতিবারের নির্দেশের পরেও তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে জট অব্যাহত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ ছিল, শর্তসাপেক্ষে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে থাকা তিনটি অ্যাকাউন্টের টাকা দৈনন্দিন খরচের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন আবেদনকারীরা (কালীঘাট–তৃণমূল)। আবার ওই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ় করার নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এই অবস্থায় আইনি জট কাটাতে শুক্রবার ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ এবং কালীঘাট–তৃণমূল।
পুরোনো তিনটি এবং নতুন করে ফ্রিজ় করা কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে এ দিন হাইকোর্টের দুই বিচারপতির পৃথক এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সব ক্ষেত্রেই আবেদনকারীরা মামলা দায়ের করলেও কবে তার শুনানি, সেই ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কোনও আশ্বাস দেননি বিচারপতিরা।
শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের তরফে আইনজীবী কিশোর দত্ত জানান, তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করেছে ইডি। এই পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করতে চান তাঁরা। আইনজীবীর আরও বক্তব্য, বুধবার প্রেস বিবৃতি দিয়ে ইডি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার কথা জানিয়েছে। অথচ রাজ্য পুলিশের নির্দেশে ফ্রিজ় হওয়া তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে স্পেশাল অফিসারের নজরদারিতে সাময়িক লেনদেন চালানোর অনুমতি দিয়েছে আদালত। কিন্তু আর্থিক তছরুপ মামলায় ইডি নতুন অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ় করায় সমস্যা বেড়েছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানান তাঁরা। আদালত মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। সোমবার মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাময়িক চালু করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে ব্যাঙ্ক কতৃর্পক্ষকে নোটিস দিয়েছে ইডি। বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশের পরে এক্ষেত্রে তাদের কী করণীয়, তা জানতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওই বেসরকারি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, তিনি ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশে মেনেই আপাতত চলতে হবে ব্যাঙ্ককে। অন্য দিকে, এ দিন ইডিও জানায়, যে তিনটি অ্যাকাউন্ট সাময়িক খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি তাদের তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং বেশ কিছু অনিয়ম তদন্তে উঠে এসেছে। তাই ওই অ্যাকাউন্টগুলি চালু থাকলে তদন্তে সমস্যা হবে। যদিও আদালত তাতে কোনও আশ্বাস দেয়নি। তৃণমূল সূত্রের খবর, এ দিন নতুন করে আরও কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে একই পদক্ষেপ করেছে পুলিশ।