• অরুণাচলে ‘সায়ানান্থাস হুকেরি’, ১৫৮ বছর পরে ভারতে ফের বিরল ফুলের দেখা
    এই সময় | ১১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: রাখে হরি মারে কে! ঠিক এমনটাই বলা যায় হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে জন্মানো সায়ান্থানাস হুকেরি সম্পর্কে। ১৮৬৭–তে শেষবার সিকিমের অরণ্যে দেখা গিয়েছিল এই বিরল গাছ। ওই বছরই ভারতে এই গাছের উপস্থিতি প্রথমবারের জন্য নথিভুক্ত হয়েছিল। তার পর আর দেখা মেলেনি বেগুনি–নীল ফুল ফোটানো এই গাছের। দীর্ঘ ১৫৮ বছর পর ফের দেখা মিলল বিরল এই ফুলের! সায়ানান্থাস হুকেরি–র সন্ধান পাওয়া গেল অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং জেলার মাগো গ্রামের কাছে চুনা উপত্যকায়। এই আবিষ্কারটিকে দেশের উদ্ভিদবিজ্ঞান ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক বলে মনে করছেন গবেষকেরা। বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া–এর বিজ্ঞানীরা ২০২৫–এর সেপ্টেম্বরে প্রায় ৩,৬০০ মিটার উচ্চতায় ফিল্ড সার্ভে চালানোর সময়ে বিরল এই উদ্ভিদের খোঁজ পান। তাঁদের এই অনুসন্ধানের ফল গবেষণা-পত্রিকা ‘অরিক্স’–এ প্রকাশিত হয়েছে।

    উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ১৮৬৭–তে ঘণ্টাফুল বা ‘ক্যাম্পান্যুলেসি’ গোত্রভুক্ত এই বেগুনি-নীল রঙের ফুলটি প্রথম নথিভুক্ত করেছিলেন ব্রিটিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী জোসেফ ডালটন হুকার। ১৮৬৭ সালে সিকিম অভিযানের সময়ে তিনি এই উদ্ভিদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। গাছটির বিজ্ঞানসম্মত নাম রাখার সময়ে তাই আবিষ্কারকের নামটি ব্যবহার করা হয়েছিল। এত বছর পরে অরুণাচলে ফের এই প্রজাতির গাছের সন্ধান মেলায় ভারতে এর বিস্তৃতির মানচিত্রে নতুন তথ্য যুক্ত হল। গবেষকেরা চুনা উপত্যকার তৃণভূমি ও পাথুরে আল্পাইন ঢালে পঞ্চাশটির কাছাকাছি অপরিণত গাছ দেখতে পান। অত্যন্ত সীমিত বিস্তৃতির কারণে প্রজাতিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এই কারণেই আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন)–এর মানদণ্ড অনুসারে ভারতে সায়ানান্থাস হুকেরি-কে ‘বিপন্ন’ প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। যদিও ভুটান, চিন ও নেপালের কিছু এলাকাতেও এই উদ্ভিদ পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে, কিন্তু ভারতে এর উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল।

    বোটানিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার পক্ষে অতি বিরল এই গাছ সম্পর্কে গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন তিন বাঙালি বিজ্ঞানী শুভজিৎ লাহিড়ী, মোনালিসা দাস এবং সুধাংশু শেখর দাশ। তাঁদের মতে, এই পুনরাবিষ্কার শুধু একটি বিরল উদ্ভিদের খোঁজ দিয়েছে এমনটাই নয়, একই সঙ্গে পূর্ব হিমালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র রক্ষার গুরুত্বও নতুন করে সামনে এসেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্য হটস্পট হিসেবে অনেক আগেই স্বীকৃতি পেয়েছে পূর্ব হিমালয়ের অংশ অরুণাচল প্রদেশ। এখানে বহু বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের খোঁজ আগেও মিলেছে।

  • Link to this news (এই সময়)