এই সময়, লাটাগুড়ি: বেশ কয়েক বছর ধরে গোরুমারার নজরমিনারগুলিতে মিলছে না লবণ এবং গুড়। যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বন দপ্তর সূত্রে খবর, বরাদ্দের অভাবেই খাদ্য ভাণ্ডারে টান পড়েছে। এতে বিগত তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
প্রতি মাসে গোরুমারার কুনকি হাতিদের জন্য রেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন নজরমিনারের জন্য বরাদ্দ করা হতো লবণ এবং গুড়। এতে দুই উদ্দেশ্যই সাধিত হতো। এক, বন্যপ্রাণীদের খাবারে লবণ এবং গুড়ের চাহিদা মেটানো যেত। দুই, নজরমিনারে বেড়াতে আসা পর্যটকরা গন্ডার, হাতি, ইন্ডিয়ান বাইসন কিংবা হরিণ দেখার আনন্দ পেতেন।
এর জন্য নজরমিনারগুলির কাছে সল্টপিট (বন্যপাণীদের জন্য নুন ও গুড় রাখার জায়গা) বানানো হয়েছিল। সেগুলিতে সপ্তাহে দু'বার করে রকসল্ট এবং চিটে গুড় রাখা হতো। করোনাকাল থেকে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্যপ্রাণীরা সল্টপিটে এসে লবণ, গুড় না-পেয়ে ফিরে যাচ্ছে।
মাঝে কয়েক দিনের জন্য লবণ-গুড় দেওয়া চালু হলেও ফের বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি ডুয়ার্সে বেড়াতে এসে কলকাতার এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটার কুণাল বোস এই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন। তাঁর ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায়।
বিষয়টি নিয়ে গোরুমারার ইকোগাইড তথা গোরুমারা যৌথ বন পরিচালন কমিটির সদস্য অজয় রায় বলেন, 'সল্টপিটে পুনরায় লবণ, গুড় রাখার ব্যবস্থা করা হোক।' বিষয়টি নিয়ে গোরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের কোনও আধিকারিক মন্তব্য করতে চাননি। তবে বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, 'গোরুমারার এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'