• ছিল ৭৪০ কোটি, হলো ২৪০ টাকা! বিপুল অঙ্কের আমানত দরিদ্র দম্পতির অ্যাকাউন্টে
    এই সময় | ১১ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, আলিপুরদুয়ার: ৭৪০ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা।

    ব্যাঙ্কের বইয়ে ছাপার অক্ষরে এই অঙ্কটা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে গিয়েছিল রায় দম্পতির। টাটা-বিড়লা-আম্বানির অ্যাকাউন্ট তো নয়, এত টাকা এলো কোথা থেকে। এটা ভেবে গলদঘর্ম অবস্থা তাঁদের। পুলিশের হস্তক্ষেপে জানা গেল, এত টাকা আদৌ নেই অ্যাকাউন্টে। ব্যাঙ্কের প্রিন্টিংয়ের ভুলে অকারণ টানাপড়েনের মধ্যে পড়তে হলো আলিপুরদুয়ারের দম্পতিকে।

    অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা পড়েছে অ্যাকাউন্টে। সেই টাকা তুলতে স্বামীকে নিয়ে ব্যাঙ্কে গিয়েছিলেন শম্পা রায়। তিন হাজার টাকা তোলেন তিনি। টাকা তোলার পরে কিয়স্ক থেকে যে স্লিপ বেরিয়ে আসে, সেটা দেখে ভিরমি খাওয়ার অবস্থা হয় শম্পা ও তাঁর স্বামী নরেশের। তাঁরা দেখতে পান, অ্যাকাউন্টে ব্যালান্স রয়েছে ৭৪০ কোটি ৬৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৮৯৫ টাকা। খুব অবাক হয়ে ব্যাঙ্ক কর্মীদের কাছে বিষয়টি জানতে চান শম্পা। তখনই ব্যাপারটা জানাজানি হয়ে যায়। এ নিয়ে শুক্রবার দুপুরে হইচই পড়ে যায় আলিপুরদুয়ারের ধুলাগাঁও এলাকায়।

    জটেশ্বরের প্রত্যন্ত গ্রাম কড়াইবাড়িতে থাকেন রায় দম্পতি। দিনমজুরি করে সংসার চলে। সরকারি ভাতার টাকা তাঁদের কাছে খুবই জরুরি। সেই টাকা তুলতে ধুলাগাঁওয়ের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কিয়স্কে এসেছিলেন তাঁরা। শম্পার অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের টাকা রয়েছে, এই খবর পৌঁছে যায় জটেশ্বর ফাঁড়িতে। পুলিশকর্মীরা কিয়স্কে আসেন। তখন শম্পা ও নরেশ জনতার ঘেরাটোপে। ভিড় ঠেলে পুলিশ উদ্ধার করে দম্পতিকে। তথ্য যাচাই করার জন্য ব্যাঙ্কের পাসবই ও কিয়স্কের স্লিপটি হেফাজতে নেয় পুলিশ।

    নাটকের এখানেই শেষ নয়। এর পরেই রায় দম্পতিকে পুলিশ যখন গাড়িতে উঠতে বলে, তখন ভীষণ ভাবে ঘাবড়ে যান দু'জন। পুলিশ তাঁদের গারদে ভরে দেবে, এই আশঙ্কায় কুঁকড়ে যান। অনেক বুঝিয়ে তাঁদের নিয়ে আসা হয় জটেশ্বরের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায়। সেখানে পাশবই পরীক্ষার পরে দেখা যায় যে, ৭৪০ কোটি তো দূরের কথা, শম্পার অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ২৪০ টাকা। এতেই টানটান উত্তেজনার নাটকে যবনিকা পড়ে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন দম্পতি।

    কয়েক ঘণ্টার জন্য কী ভাবে শম্পা-নরেশ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেলেন? ব্যাঙ্ক সূত্রে জানানো হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটা হয়েছে। 'প্রিন্টিং এরর'-এর জন্য আজগুবি, মনগড়া সংখ্যা ব্যালান্স হিসেবে ছাপা হয়ে গিয়েছিল গ্রাহকের স্লিপে। এতে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। শম্পা বলেন, 'প্রথমে যখন জানতে পারলাম যে আমার ব্যাঙ্কের খাতায় কয়েকশো কোটি টাকা জমা আছে, তখন আমার চোখ উল্টে গিয়েছিল। এটা কী ভাবে সম্ভব। স্বামীকে বলতেই তিনি নির্বাক হয়ে পড়েন।'

    এই টাকা নিয়ে কোনও স্বপ্ন দেখার সুযোগ পাননি শম্পা। বরং টানাটানির চোটে দম বেরিয়ে যাচ্ছিল, পুলিশ এসে পড়ায় আরও টেনশন বেড়ে গিয়েছিল নরেশদের। ছাপার ভুল বলে ব্যাঙ্ক জানিয়ে দেওয়ার পরে কী মনে হলো? শম্পা বলেন, 'আমরা দিন আনা-দিন খাওয়া মানুষ। অত টাকা কে দেবে আমাদের? সরকার তো তিন হাজার টাকা দেয়। আমরা জানতাম, ওই টাকা কিছুতেই আমাদের হতে পারে না। শেষ পর্যন্ত এটা প্রমাণ হওয়ায় নিশ্চিন্ত হয়েছি।'

  • Link to this news (এই সময়)