এই সময়, হলদিয়া: রাজ্যে পালা বদলের প্রভাব পড়ল পঞ্চায়েত স্তরে। ২০২৩–এ ভোটে জিতে দখল করা পঞ্চায়েত হাতছাড়া হলো তৃণমূলের। শুক্রবার নন্দীগ্রাম–১ ব্লকের সামসাবাদ পঞ্চায়েতে উড়ল গেরুয়া পতাকা।
এ দিন এই পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাচনে ৫ জন নির্বাচিত বিজেপি সদস্য তো ছিলেনই। সেই সঙ্গে তৃণমূলের ৬ জন এবং কংগ্রেসের এক জন সদস্যের সমর্থন ছিল বিজেপি প্রধানের দিকে। ১৮ আসনের এই পঞ্চায়েতে ১২ জন সদস্যের সমর্থন নিয়ে বিজেপি নতুন বোর্ড গঠন করেছে। প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন প্রদীপ পট্টনায়ক। এই নিয়ে নন্দীগ্রাম–১ ব্লকের ১০টি পঞ্চায়েতের মধ্যে বিজেপির দখলে থাকলো ৮টি।
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৮ আসনের এই পঞ্চায়েতে তৃণমূল ১১ টি আসনে জয়ী হয়। বিজেপি পেয়েছিল ৫টি ও কংগ্রেস ২টি আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিচারে পঞ্চায়েত দখল করে তৃণমূল। কিন্তু এ বার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল হেরে যাওয়ার পরে তৃণমূলের বেশ কিছু সদস্য এলাকার উন্নয়ন নিয়ে নতুন সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এ দিন প্রধান নির্বাচনে যার প্রতিফলন দেখা গেল। সামসাবাদ পঞ্চায়েতের নতুন প্রধান নির্বাচিত হওয়ার পরে বিজেপির প্রদীপ পট্টনায়ক বলেন, ‘আমরা এলাকার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই সরকারের যাবতীয় উন্নয়ন আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। যার মধ্যে রয়েছে রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল থেকে নিকাশি ব্যবস্থা এবং অন্নপূর্ণা যোজনা, কৃষকবন্ধু, বার্ধক্য ভাতা, ১২৫ দিনের কাজ–সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা।’
নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় রয়েছে ১৭টি পঞ্চায়েত ও ২টি পঞ্চায়েত সমিতি। বর্তমান ১৫টি পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে। দুটি পঞ্চায়েত সমিতিতে ক্ষমতায় বিজেপি। রাজ্য এবং কেন্দ্রে বিজেপি সরকার থাকার সুবাদে সামসাবাদ পঞ্চায়েতের মানুষ উন্নয়নের আশায় বুক বাঁধছেন। বিজেপির নন্দীগ্রাম বিধানসভা কমিটির কনভেনার অভিজিৎ মাইতি বলেন, ‘নন্দীগ্রাম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জায়গা। ২০২৩–এ পঞ্চায়েত ভোটে মানুষ ভুল করে তৃণমূলকে সামসাবাদ পঞ্চায়েতে ক্ষমতায় এনেছিলেন। এখন তাদের ছুড়ে ফেলে দিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে তাঁরা এলাকায় উন্নয়ন চান। আমরা সেই উন্নয়নের সুবিধা মানুষকে দিতে চাই।’এ ব্যাপারে নন্দীগ্রামের তৃণমূল নেতা আবু তাহেরকে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। মেসেজ করা হলে তার উত্তর আসেনি।