• ২০২৯ সালেই এক দেশ এক ভোট!
    বর্তমান | ১১ জুলাই ২০২৬
  • সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রপতিকে সংবিধানের প্রস্তাবিত ৮২এ ধারা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তি এবং একটি ‘অ্যাপয়েন্টেড ডেট’ ঘোষণা করতে হবে। নতুন লোকসভার প্রথম দিনের ভিত্তিতে ধরা হবে সেই তারিখ। এটাই নিয়ম। আর তা মানলে সংবিধানের একঝাঁক সংশোধন সত্ত্বেও ২০৩৪ সালের আগে ‘ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন’ চালুর সম্ভাবনা নেই বলেই চর্চা ছিল এতদিন। কিন্তু শুক্রবার ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন বিল সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান, তথা বিজেপি এমপি পি পি চৌধুরী বৈঠকের পর বলেছেন, ‘২০২৯ সালের মধ্যেই ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশনের সব সংস্কার সমাপ্ত হয়ে যাবে। পূর্ণভাবেই ওই বছর এক দেশ এক নির্বাচন চালু হওয়ার মতো পরিস্থিতি হবে।’ কমিটির অন্য সদস্য বিজেপি এমপি অনুরাগ ঠাকুর বলেছেন, ‘কমিটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থা, ভোটদান, প্রশাসনিক কাঠামোর রূপরেখা আমূল বদলে যাবে।’ যদিও ১২৯তম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে যে বিল ২০২৪ সালে আনা হয়েছিল, তাতে উল্লিখিত পদ্ধতি মেনে চললে কীভাবে আড়াই বছরেই ‘এক দেশ এক ভোট’ কার্যকর হবে, সেই ব্যাখ্যা এদিনের বৈঠকের পর সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান দেননি। গোয়ায় আয়োজিত বৈঠকের পর তিনি বলেছেন, ‘কমিটি দেশজুড়ে এই বিল নিয়ে সকল পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছে। ৯৯ শতাংশ আলোচনা হয়ে গিয়েছে। সিংহভাগই এক দেশ এক নির্বাচনের পক্ষে। এই সংস্কারকে চালু করতে যে চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হবে, সেগুলি অতিক্রম করার বিশ্বাস সব পক্ষের রয়েছে। সমস্ত দিক বিবেচনা করে সংসদীয় কমিটি মনে করছে, ২০২৯ সালের মধ্যেই এই ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব।’

    কিন্তু ভারতের রাজ্যগুলির বিধানসভার গঠন ও অবসানের সময়সীমা তো ভিন্ন। সেই ভারসাম্য কীভাবে হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে পি পি চৌধুরী বলেছেন, ‘সেই কারণেই সব মুখ্যমন্ত্রী ও রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে আমরা কথা বলছি। তাঁরা রাজি হলে এই লক্ষ্যপূরণ সম্ভব।’ চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেছেন, সব রাজ্যই তাদের বিধানসভার মেয়াদকে এগিয়ে পিছিয়ে আনতে সম্মত হবে। তাহলে আর বাধা থাকবে না। সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান এবং বিজেপি এমপিদের এই অতি সক্রিয়তা থেকে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সরকারের কাছে কোনো বিশেষ প্ল্যান রয়েছে? আগামী আড়াই বছরের মধ্যে বকেয়া সব এজেন্ডাই নরেন্দ্র মোদি কার্যকর করে দিতে চাইছেন? তার মধ্যে প্রধান অবশ্যই দেশজুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, এক দেশ এক ভোট। 

    সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হল, যদি সত্যিই এই লক্ষ্য পূরণ করার জন্য ২০২৯ সালেই ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন চালু হয়, তাহলে সদ্য গঠিত নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মেয়াদও আর আড়াই বছর। এক দেশ এক ভোটের অর্থ, একসঙ্গে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচন। ক্রমেই পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটও ওই একই সময়সারণিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। ডিলিমিটেশন থেকে ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন। একঝাঁক সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন চাই সংসদে। সেই কারণেই কি বিজেপি মরিয়া হয়ে ঝাঁপিয়েছে অপারেশন লোটাসে? 
  • Link to this news (বর্তমান)