• পাহাড়ে ধসে বিপর্যস্ত জাতীয় সড়ক, সমতলে ভাঙছে নদীপাড়
    বর্তমান | ১১ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও রায়গঞ্জ: পাহাড়-সমতলে বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গে ফুঁসছে একাধিক নদী। শুক্রবার তিস্তা ও জলঢাকা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় জারি হয়েছে হলুদ সংকেত। এর জেরে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের বিভিন্ন জায়গায় নদীভাঙন ও বাঁধে রেইন কাটের খবর মিলেছে। গৌড়বঙ্গের গঙ্গা, ফুলহার, মহানন্দা, কুলিক, আত্রেয়ী নদীর জলস্তর বেড়েছে। অন্যদিকে, ধসে দার্জিলিংয়ে একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধ টয় ট্রেন পরিষেবা। কালিম্পং ও সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কও বিপর্যস্ত। এমন প্রেক্ষাপটে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে দুর্যোগ পরিস্থিতি জটিলও হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

    সেচদপ্তর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কোচবিহারে বৃষ্টির পরিমাণ সর্বাধিক, ১৪৩.০০ মিলিমিটার। শীতলকুচিতে রেকর্ড করা হয়েছে ১৪২.২০ মিমি বৃষ্টি। যা অতিভারী। আলিপুরদুয়ারে ১১২.২০, বানারহাটে ৯৩.০০ মিমি, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ৭৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। পাহাড়েও বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি অব্যাহত। 

    শিলিগুড়ির মহানন্দা, বালাসন, জলপাইগুড়ির জলঢাকা, তিস্তা, উত্তর দিনাজপুরে কুলিক, পুনর্ভবা, বালুরঘাটের আত্রেয়ী, মালদহের মহানন্দা, গঙ্গা, ফুলহার নদী ফুলেফেঁপে উঠেছে। এদিন সকালে জলপাইগুড়িতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের সাপ্টিয়াবাড়িতে জলঢাকা নদীর জলস্তর অসংরক্ষিত এলাকায় বিপদসীমার উপরে উঠে যায়। দোমোহনি ও মেখলিগঞ্জে তিস্তা নদীর জলও বেড়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট দু’টি নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় সেচদপ্তর হলুদ সংকেত জারি করেছে। সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা জানান, জলস্তরে নজর রাখা হয়েছে। নদী তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। 

    অন্যদিকে, একাধিক জায়গায় শুরু হয়েছে নদীভাঙন। সেচদপ্তর সূত্রের খবর, জলপাইগুড়ি, বানারহাটে গয়েরকাটা টি গার্ডেন এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে পাড় ভাঙছে আংরাভাসা নদী। নকশালবাড়ির হাতিঘিষার লোহাসিং জোতে থাবা বসিয়েছে চেঙ্গা নদী। এখানে ১৫০ মিটার অংশ ভেঙেছে। আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের জ্যোতিনগর কলোনিতে বালাসন নদীর ৪৫০ মিটার, পাথরঘাটার সালবাড়িতে পঞ্চানই নদীর বাঁ তীরে ১২০ মিটার এবং সেভক বাজারে তিস্তার ডান তীরে ১৫০ মিটার অংশে ভাঙন শুরু হয়েছে। রেনকাটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পোরাঝাড় গ্রামে মহানন্দা নদীর বাঁধে প্রায় ৬০ মিটার অংশ। তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের দেওচড়াই পঞ্চায়েতের কৃষ্ণপুর গ্রামে পাড় ভাঙছে গদাধর নদীর। 

    এদিকে, কুলিকের ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের অংশ দিয়ে জল ঢুকেছে রায়গঞ্জ ও হেমতাবাদের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে। শুক্রবার রায়গঞ্জের বিডিও কামালউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন হেমতাবাদের বিধায়ক হরিপদ বর্মন। নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। ধসে বিধ্বস্ত পাহাড়। দার্জিলিং-পুলবাজারে ধসে গিয়ে ঘরের মেঝে। তাগদায় গাছ পড়ে কিছুক্ষণ বন্ধ ছিল গ্রামীণ রাস্তা। কালিম্পং জেলা ও প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমের লাইফ লাইন ধসে বিধ্বস্ত। এদিন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ধস বিধ্বস্ত এলাকাগুলি পরিদর্শন করেন কালিম্পংয়ের জেলাশাসক কূহুক ভূষণ। সিকিম প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধসের জেরে এদিন বিরিকধারা, ২৯ মাইল ও হনুমান মন্দির এলাকা বেশ কিছুক্ষণ অবরুদ্ধ ছিল। ধসে সিকিমের বহু রাস্তাও বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় উত্তরের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। • দার্জিলিংয়ের পুলবাজারে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি। - নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)