• প্রশাসক চালিত পুরসভায় ভোট ডিসেম্বরে?
    বর্তমান | ১১ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাকপুর: রাজ্যের বেশ কিছু পুরসভার নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনও পুরভোটের মাধ্যমে নতুন বোর্ড গঠন হয়নি। বিধানসভা ভোটের আগে কয়েকটি পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেয় তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। আর রাজ্যে পালাবদলের পর মেয়র, চেয়ারম্যান থেকে সিংহভাগ কাউন্সিলার পদত্যাগ করায় বহু পুরসভার বোর্ড ভেঙে যায়। তিনটি ক্ষেত্রেই প্রশাসক বসিয়ে সচল রাখা হয়েছ পুরসভাগুলি। এর ফলে একদিকে যেমন বিভিন্ন পুর-পরিষেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে, তেমনই কাউন্সিলার না থাকায় ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ এই পরিস্থিতি বদলে যেতে চলেছে! কারণ, প্রশাসকের পরিচালনাধীন পুরসভাগুলিতে ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরভোট সেরে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। এই সময়সীমা মাথায় রেখে রাজ্য সরকারও তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। 

    শুক্রবার ভাটপাড়া পুরসভার এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান অর্জুন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসক তো দিনের পর দিন পুরসভা চালাতে পারেন না। নাগরিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে। মানুষের প্রতি পুরসভার যে দায়বদ্ধতা রয়েছে, তা ঠিকমতো পালন হচ্ছে না। তাই যেসব পুরসভায় প্রশাসক বসানো হয়েছে, সেখানে নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট হবে। বর্তমানে যেভাবে পুরসভা চলছে, সেভাবে চলতে পারে না।’ 

    পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কার্শিয়াং, কালিম্পং, মিরিক (নোটিফায়েড এরিয়া), দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুজালি, পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, বীরভূমের নলহাটি, দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর, নদীয়ার কুপার্স ক্যাম্প (নোটিফায়েড এরিয়া) হাওড়ার বালি, মুর্শিদাবাদের ডোমকল, জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া ও হলদিয়া, উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ পুরসভায় নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে সেই ২০২২ সালে। তারপর আর পুরভোট হয়নি এই পুরসভাগুলিতে। হাওড়া কর্পোরেশনের নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে আরও আগে, ২০১৮ সালে। মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ইংরেজি নতুন বছরেই নতুন পুরবোর্ড পাবে এসব পুরসভার নাগরিকরা। 

    বিগত তৃণমূল সরকার বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে নদীয়ার চাকদহ, গয়েশপুর ও কৃষ্ণনগর, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট এবং পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসক বসায়। আর রাজ্যে পালাবদলের পর অর্থাৎ ৪ মে’র পর তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের লাইন দিয়ে পদত্যাগের কারণে বোর্ড ভেঙে যায় রাজ্যের ২১টির বেশি পুরসভায়। কলকাতাসহ এই তালিকায় আছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি, উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া, গারুলিয়া, উত্তর বারাকপুর, হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, উত্তর দমদম, টিটাগড়, বিধাননগর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ডহারবার, হুগলির ভদ্রেশ্বর, চন্দননগর, পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাট, মেমারি, বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভা। পুরসভার দৈনন্দিন পরিষেবা সচল রাখতে এসব পুরসভায়ও ইতিমধ্যে প্রশাসক বসিয়েছে নতুন সরকার। ডিসেম্বরের মধ্যে এই পুরসভাগুলিতেও নির্বাচন সংগঠিত হবে।  

    প্রত্যেক পুরভোটের আগে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন করতে হয়। সেই সঙ্গে ঠিক করতে হয় ‘সংরক্ষিত’ হবে কোন কোন ওয়ার্ড। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, যেসব পুরবোর্ডের মেয়াদ ২০২২ সালেই ফুরিয়েছে, সেখানে ইতিমধ্যে এই দু’টি কাজ সেরে রাখা হয়েছে। কিন্তু বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে এবং পালাবদলের পর যেসব পুরসভায় প্রশাসক বসেছেন, সেখানে এই কাজ এখনও হয়নি। রাজ্য সরকার সূত্রে খবর, অক্টোবরের মধ্যে সেই কাজ সেরে ফেলার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ন’মাস ধরে ফাঁকা পড়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি। জুলাইয়ের শুরুতে কৃষ্ণ গুপ্তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলি পূরণের জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে। জুলাইয়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া মিটিয়ে অক্টোবরের মধ্যে পুরসভাগুলির ডিলিমিটেশন ও রিজার্ভেশনের কাজ শেষ করা সম্ভব বলেই আশাবাদী রাজ্য সরকার।
  • Link to this news (বর্তমান)